নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৫ সালের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পক্ষে সওয়াল করল ব্রিকস। শনিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’-এ ২২ এপ্রিল ২০২৫-এর ওই হামলার উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন।
যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদকে অপরাধমূলক ও অন্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ব্রিকস নেতারা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের কোনও উদ্দেশ্য, স্থান বা পরিচয়ের ভিত্তিতে তার বৈধতা দেওয়া যায় না। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনও ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সন্ত্রাসবাদে যুক্ত এবং তাদের সহযোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিচারিতা প্রত্যাখ্যান করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
ব্রিকস নেতারা আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলির প্রাথমিক দায়িত্ব রয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, শরণার্থী আইন এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনেই সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্রিকস কাউন্টার-টেররিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং তার পাঁচটি সাব-গ্রুপের কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে একটি সর্বাত্মক কনভেনশন দ্রুত চূড়ান্ত ও গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকাভুক্ত সমস্ত সন্ত্রাসবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উগ্রবাদ ও র্যাডিকালাইজেশন প্রতিরোধে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা এবং সর্বোত্তম পদ্ধতি বিনিময়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। অবৈধভাবে ভার্চুয়াল সম্পদের ব্যবহার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রক কাঠামো লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার অখণ্ডতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে সীমান্তপারের প্রতারণা, সংগঠিত অনলাইন জালিয়াতি এবং তথাকথিত ‘স্ক্যাম কম্পাউন্ড’-এর বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি, পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং দুর্বল পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ব্যবহার করে পরিচালিত এই ধরনের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে ব্রিকস।



















