কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি-র অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, দীর্ঘক্ষণ জেরার মুখে সুমিত রায় ভেঙে পড়েন এবং একাধিক আর্থিক অনিয়মে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে বহু কোটি টাকার বেআইনি জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে সিআইডি। শুক্রবার তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি জেলা আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে আট দিনের সিআইডি হেফাজতে পাঠায়।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে একজন আইপিএস আধিকারিকের নেতৃত্বে এবং ডিএসপি পদমর্যাদার দুই আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে গঠিত সিআইডির বিশেষ দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিকের দাবি, টানা জেরায় সুমিত রায় একাধিক বিষয়ে তথ্য দিতে শুরু করেছেন। শুধু শালবনির জমি দখল সংক্রান্ত মামলাই নয়, রাজ্যের আরও কয়েকটি বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গেও তাঁর যোগসূত্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের আরেক আধিকারিকের দাবি, শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। অভিযোগ, ওই অর্থ একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছিল। এই লেনদেনের সঙ্গে সুমিত রায় ছাড়াও আর কারা জড়িত ছিলেন এবং কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের মতে, সুমিত রায়ের বয়ান এই মামলার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে থাকা নথি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
সিআইডি সূত্রের আরও দাবি, সুমিত রায় কার কাছ থেকে নির্দেশ পেতেন এবং এই বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের নামে থাকা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ইতিমধ্যেই তাঁদের হাতে এসেছে। ওই অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে বলে সিআইডি সূত্রের দাবি। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই অর্থের উৎস এবং লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
—আইএএনএস



















