নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিশ্ব ব্যবস্থায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আরও বেশি ভূমিকা নিশ্চিত করতে এবং ব্রিকসকে শক্তিশালী করতে বিশ্ব প্রশাসনের ১০টি সংস্কারের রোডম্যাপ তৈরির জোরালো প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘ইনক্লুসিভ গ্লোবাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং মাল্টিল্যাটারালিজম’ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই প্রস্তাব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্ব প্রশাসনের সংস্কারের পথও তৈরি করতে হবে। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রশাসনের কাঠামো অনেকটা পিরামিডের মতো, যেখানে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার মূলত শীর্ষ স্তরে কেন্দ্রীভূত। অথচ নিচের স্তরে থাকা বহু দেশ সেই সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর ভূমিকা থাকে না।
মোদি বলেন, গ্লোবাল সাউথের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আরও প্রকট। বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের সরাসরি প্রভাব তাদের উপর পড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলিতে তাদের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব নেই। তাই বর্তমান বিশ্ব প্রশাসনের কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সুবিধাভোগের পিরামিডকে অংশীদারিত্বের মঞ্চে রূপান্তরিত করতে হবে।” তিনি বলেন, ভারতের আয়োজিত এই ব্রিকস সম্মেলন থেকে বার্তা স্পষ্ট হওয়া উচিত—ভবিষ্যৎ যদি সবার হয়, তাহলে সেই ভবিষ্যৎ গঠনের অধিকারও সবার হওয়া উচিত। কেবল মতামত প্রকাশের সুযোগ নয়, সেই মতামতের বাস্তব প্রভাবও নিশ্চিত করতে হবে।
এই লক্ষ্যেই আগামী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে ১০টি বিশ্ব প্রশাসনিক সংস্কার প্রস্তাব যৌথভাবে তৈরি করে একটি ব্রিকস সংস্কার রোডম্যাপ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের মতামত, প্রতিটি সদস্যের অংশীদারিত্ব এবং মানবজাতির উন্নয়নকে বিশ্ব সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। রোডম্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে তিনি তিনটি বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন—প্রতিনিধিত্ব, দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া এবং নিয়ম প্রণয়নে অংশগ্রহণ।
প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর পিছিয়ে দেওয়া যায় না। এই বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও স্পষ্ট ফলাফল যুক্ত করতে হবে। একইভাবে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকার বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। যে দেশগুলি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তাদের বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রশাসনের কাঠামো গঠনে উপযুক্ত ভূমিকা থাকা উচিত।
বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মোদি একটি ‘সিফেয়ারার্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’ তৈরির পক্ষেও সওয়াল করেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে সম্মিলিত উদ্যোগের গতি, পরিসর এবং প্রত্যন্ত স্তরে তার কার্যকর পৌঁছনো আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
নিয়ম প্রণয়নের ক্ষেত্রে সকল দেশের সমান অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস, মহাকাশ, বায়োটেকনোলজি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শুধু ভবিষ্যতের নতুন সুযোগ তৈরি করছে না, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনও নির্ধারণ করছে। তাই এই ক্ষেত্রগুলির নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়ায় সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
—আইএএনএস



















