ওয়াশিংটন, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ১৯৯৮ সালে ভারতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের। সম্প্রতি প্রকাশিত সিআইএ-র গোপন নথিতে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। নথিগুলিতে বিন লাদেনের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র এবং তাকে আফগানিস্তান থেকে বহিষ্কার করতে তালিবানের অস্বীকৃতির বিষয়ও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি সিআইএ মূল্যায়নে সম্ভাব্য হামলার স্থান হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি মিশর, আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন দেশ, উগান্ডা এবং সম্ভবত নাইজেরিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। তবে এই তথ্যের উৎস নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। প্রকাশিত অংশে ভারতের কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার তারিখ বা নির্দিষ্ট কোনও অপারেশনাল পরিকল্পনার উল্লেখ নেই।
‘বিন লাদেন টেররিস্ট নেটওয়ার্ক স্টিল আ থ্রেট’ শিরোনামের ওই গোয়েন্দা নথিতে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা বিন লাদেন এবং অন্যান্য জঙ্গি নেতারা মার্কিন হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিল। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ছিল, কয়েকটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ফের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল এবং অন্য কয়েকটি শিবির স্থানান্তর করা হচ্ছিল।
সিআইএ-র মূল্যায়নে বলা হয়, অন্তত ৬০টি দেশে থাকা ব্যক্তি ও সহযোগী জঙ্গি সংগঠনগুলির মাধ্যমে হামলা চালানোর সক্ষমতা ছিল বিন লাদেনের।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিআইএ-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ যে ৭১টি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ নথি প্রকাশ করেছেন, তার মধ্যে এই নথিও রয়েছে। সিআইএ জানিয়েছে, ৯/১১ সংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের জন্য প্রস্তুত করা গোপন গোয়েন্দা ব্রিফগুলির মধ্যে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় প্রকাশিত সংগ্রহ। এতে ১০০ পৃষ্ঠারও বেশি বিশ্লেষণ রয়েছে।
নথিগুলিতে কান্দাহার জিম্মি সংকট এবং বিন লাদেনের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের বিষয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।
২০০০ সালের ৩ জানুয়ারির একটি মূল্যায়নে বলা হয়, আগের মাসে তালিবানের মন্ত্রিসভা বিন লাদেনকে আফগানিস্তান থেকে বহিষ্কার না করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নিয়েছিল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পক্ষ থেকে বিন লাদেনকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের পর ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ওই ব্রিফে আরও বলা হয়, কান্দাহার জিম্মি সংকটকে ব্যবহার করে বিন লাদেনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযান চালানো হতে পারে—এই আশঙ্কায় তালিবানের কয়েকজন নেতা তাকে নিরাপত্তা বাড়ানোর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এই অংশের কিছু তথ্য এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
নথিতে অপহরণের ঘটনায় “ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সন্দেহ”-এর কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে নথিটি পাকিস্তানকে ওই অপহরণের জন্য দায়ী বলে প্রতিষ্ঠা করেনি। বরং মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের তৎকালীন নেতা পারভেজ মুশারফের পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তিনি তালিবানের ওপর বিন লাদেনকে বহিষ্কারের জন্য চাপ বাড়াতে পারেন।
২০০০ সালের ২৭ জুনের আরেকটি ব্রিফে বিন লাদেনের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি ইসলামপন্থী উগ্রপন্থীরা পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে—এই আশঙ্কাও ইসলামাবাদের পদক্ষেপের অন্যতম কারণ ছিল বলে জানানো হয়।
বিন লাদেনের সংগঠনের সদস্যরা অন্য দেশে আরব জঙ্গিদের পাঠাতে সমস্যার কথা জানিয়েছিল। এর পেছনে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পেশোয়ারের কাছে অভিযান চালিয়ে উত্তর আফ্রিকার উগ্রপন্থীদের ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তারের কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
১৯৯৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির আরও একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানভিত্তিক হরকত-উল-আনসারের নেতারা মিশরের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে মিলে বিন লাদেনের সেই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
সিআইএ জানিয়েছে, প্রকাশিত নথিগুলি থেকে আল-কায়েদা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ক্রমবর্ধমান ধারণা এবং সীমিত, অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ তথ্যের মধ্যেও সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
—আইএএনএস



















