নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্রিকস দেশগুলিকে পারস্পরিক বাণিজ্য আরও বাড়ানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিস্থাপক করে তোলার আহ্বান জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে ব্রিকসের অর্থনৈতিক শক্তি অনেকটাই নির্ভর করবে বৈশ্বিক ধাক্কা ও সংকট মোকাবিলা করে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর।
শুক্রবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সংঘাত, মহামারি এবং জলবায়ুজনিত ঘটনাবলি বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামোকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা এবং জটিলতাই বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের ব্যবসায়ী মহলের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্যিক সুযোগ খোঁজা হওয়া উচিত নয়। সীমান্তপারের ব্যবসা যাতে আরও সহজ, স্থিতিশীল এবং সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়, সেই পরিবেশ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য সহজীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি পরিষেবা, কৃষি ও কৃষি-প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিষেবা, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ এবং মহিলাদের নেতৃত্বাধীন ব্যবসার প্রসারের ওপরও জোর দেন।
জয়শঙ্করের মতে, ব্রিকসের লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যবসাগুলিকে আরও বেশি অংশীদার খুঁজে পেতে সাহায্য করা, নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা, সরবরাহ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো এবং সদস্য দেশগুলির অর্থনীতির পারস্পরিক পরিপূরক বৈশিষ্ট্যকে কার্যকর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করা।
তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়লে আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হবে। তবে আত্মনির্ভরতার অর্থ কোনওভাবেই বিশ্বের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বা অন্তর্মুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করা নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিদেশমন্ত্রী প্রকৃত বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ, বাণিজ্যিক সম্পর্কের বৈচিত্র্য এবং স্বচ্ছ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একইসঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার, মানদণ্ড, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জানান, উদ্ভাবন ও উদ্যোগভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ভারত একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিকস ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক এবং ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড।
তিনি বলেন, ভারতের বৃহৎ ও দ্রুত সম্প্রসারিত বাজার, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতা, বিপুল দক্ষ মানবসম্পদ, ডিজিটাল ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী উদ্যোগপতি পরিবেশ ব্রিকসের পরবর্তী পর্যায়ের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
জয়শঙ্করের বক্তব্য, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একের পর এক ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করাই ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত।



















