নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসের হুমকি ক্রমাগত পরিবর্তিত হলেও এর বিরুদ্ধে ভারতের সংকল্প কখনও দুর্বল হবে না।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও সেই ভয়াবহ ঘটনার নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানানো হচ্ছে। এই হামলার ফলে অসংখ্য পরিবারের জীবন চিরতরে বদলে গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের শিকার দেশ হিসেবে ভারত কয়েক দশক ধরে এই লড়াইয়ের সামনের সারিতে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকির ধরন ক্রমাগত পরিবর্তিত হলেও সব ধরনের ও সব রূপের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান ও সংকল্প অটুট রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত প্রচেষ্টার প্রতিও ভারত সংহতি প্রকাশ করে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিজের ২০১৪ সালের ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম সফরের কিছু ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
উল্লেখ্য, ২৫ বছর আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়ে চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় আমেরিকায়। আল-কায়েদার জঙ্গিরা ছিনতাই করা দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া টাওয়ারে আছড়ে দেয়। এর ফলে আইকনিক টুইন টাওয়ার ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
আরও একটি বিমান ওয়াশিংটনের কাছে পেন্টাগনে আঘাত হানে। চতুর্থ বিমানটি আমেরিকার রাজধানীর দিকে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিহত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে সেটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে ভেঙে পড়ে।
৯/১১ হামলায় প্রায় ৩,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। হামলার প্রত্যক্ষ শোকের পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে পরবর্তী কয়েক দশকে আমেরিকার সামরিক অভিযান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে নিহতদের স্মরণে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নীরবতা পালন, প্রার্থনা, নিহতদের নাম পাঠ এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়েছে।
স্কুল-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নতুন প্রজন্মের কাছে ৯/১১ হামলার ইতিহাস ও তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক সকালে সংঘটিত সেই হামলা শুধু প্রায় ৩,০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং ব্যক্তিগত শোক থেকে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের মতো নানা ক্ষেত্রে কয়েক দশক ধরে প্রভাব ফেলেছে।
























