নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ব্রিকসের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই জোটের গুরুত্বের পক্ষে সওয়াল করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তাঁর বক্তব্য, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির জন্য ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। একইসঙ্গে ব্রিকস সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত নিজের কূটনৈতিকভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশকে একত্রিত করার সক্ষমতাও তুলে ধরছে।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থারুর বলেন, ১১টি দেশের এই জোট বিশ্বের জনসংখ্যা ও অর্থনীতির একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁর কথায়, গ্লোবাল সাউথে ১০০-রও বেশি দেশ রয়েছে। কিন্তু ব্রিকসের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ দেশ একসঙ্গে সেই অঞ্চলটির মতামতের বৈচিত্র্যের একটি বড় অংশকে তুলে ধরে।
থারুরের দাবি, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং বৈশ্বিক মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৪১ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির কাছেও এই জোটকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ভারতে ব্রিকস সম্মেলন আয়োজনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সদস্য ও পর্যবেক্ষক দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধানদের একত্রিত করতে পারা ভারতের জন্য মর্যাদার বিষয়। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শক্তিকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতা বা ‘কনভেনিং পাওয়ার’ প্রকাশ পায়, যার নিজস্ব মূল্য রয়েছে।
থারুরের এই মন্তব্য এমন সময় সামনে এসেছে, যখন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম ব্রিকসে ভারতের অংশগ্রহণ থেকে বাস্তবে কী ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা দেশ পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে দুই দিনের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ অংশ নিচ্ছে।
এদিকে সার্বভৌম পুঁজিকে অবকাঠামো, জ্বালানি ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির উপযোগী প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলিতে বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
…..



















