দেরাদুন, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরাখণ্ডে দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে উদ্যোগী হলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বৃহস্পতিবার হালদোয়ানিতে ‘যুবা সংবাদ’ কর্মসূচিতে জেন-জেডের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পাশাপাশি দলের কর্মীদের সঙ্গে কৌশলগত বৈঠকেও অংশ নেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি।
যুবদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর নিতিন নবীন এক্স-এ জানান, দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের তরুণদের সঙ্গে ‘যুবা সংবাদ’ কর্মসূচিতে অর্থবহ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকনির্দেশনা এবং মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ড ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নেতৃত্ব দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোগপতিরা রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে অবদান রাখছেন বলে জানান তিনি।
এরপর দলের এক বুথ সভাপতির আয়োজিত চা-চক্রে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান নবীন। তিনি বলেন, দলের কর্মীরাই সংগঠনের মেরুদণ্ড এবং তাঁদের সঙ্গে এমন সহজ মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া সবসময়ই বিশেষ।
পরে নৈনিতাল রোডের ভাটিকা ব্যাঙ্কোয়েট হলে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দিল্লিতে জাতীয় যুদ্ধ স্মারক উদ্বোধনের মাধ্যমে শহিদদের যথাযথ সম্মান দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ‘সৈন্য ধাম’ নির্মাণের পরিকল্পনা করে প্রতিরক্ষা কর্মীদের সম্মান জানাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিতিন নবীন প্রধানমন্ত্রী মোদির সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পটি দুর্গম এলাকায় সীমান্তে পৌঁছতে হয় এমন প্রতিরক্ষা কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নির্বাচনের আগে সমাজের বিভিন্ন অংশের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যে বিজেপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘শিখ গৌরব সম্মেলন’-এও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে নবীনের।
২০২৭ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। বুধবার হালদোয়ানিতে বর্ধিত রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নবীন বলেন, দেবভূমির শক্তি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দল উন্নয়ন এবং ‘রাষ্ট্র সর্বাগ্রে’ নীতিতে অটল রয়েছে।
ওই বৈঠকে তিনি সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, সেনাকর্মীদের সম্মান ও কল্যাণ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বাস্তবায়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপকে বিজেপির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের অবস্থানের সমালোচনা করে রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেন নবীন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কিছু নেতা ‘বন্দে মাতরম’ বলতেও অস্বস্তি বোধ করেন। ভারতীয় সংস্কৃতির গুরুত্ব না বোঝার কারণেই রাহুল গান্ধী ‘বন্দে মাতরম’-এর তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বিজেপি সভাপতি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের মানসিকতায় তোষণের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর দাবি, সমাজ ও ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করা এবং দেশের সম্পদের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের প্রথম অধিকার থাকার মতো বক্তব্য সেই রাজনীতিরই প্রতিফলন।
–আইএএনএস



















