নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের মহাকাশ গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে ফ্রান্স-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার প্যারিসে আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক স্পেস সামিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভারতের দ্রুত বিকাশমান মহাকাশ সক্ষমতা এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠা বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার দর্শনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। মহাকাশ প্রযুক্তির সুফল যাতে সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছায়, সেটিই ভারতের মূল লক্ষ্য।
‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’-এর ভাবনায় ভারত বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, সংলাপ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে মহাকাশকে নিরাপদ, সুরক্ষিত, শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ পরিচালিত হওয়া উচিত ‘সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, স্বল্পমেয়াদি লাভের পরিবর্তে স্থায়িত্ব এবং বর্জনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তি’র নীতিতে।
ভারতের মহাকাশ সাফল্যের কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, সাশ্রয়ী মহাকাশ অভিযান ও প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই প্রযুক্তি কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সহায়তা থেকে শুরু করে আবহাওয়া পূর্বাভাস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নেভিগেশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতীয় রকেটের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩৪টি দেশের ৪৩০টিরও বেশি উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের মহাকাশ সক্ষমতার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসরোর বিশ্বব্যাপী সুনাম তৈরির পিছনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতীয় বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রযুক্তিবিদদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য এবং আদিত্য-এল১ অভিযানের কথাও তুলে ধরেন মোদি। চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি সফলভাবে সফট ল্যান্ডিং করা বিশ্বের প্রথম অভিযান হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সূর্যকে নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে আদিত্য-এল১-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী দিনের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে মোদি বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন স্থাপন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে ভারতের।
তিনি আরও বলেন, ভারতের বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্র দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইসরোর সাফল্যের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও দেশের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে।
ভারত-ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের মহাকাশ সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ১৯৬০-এর দশকে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির শুরুর সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। বর্তমানে এই অংশীদারিত্ব আর্থ অবজারভেশন এবং উন্নত প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।
ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশকে অংশীদার হিসেবে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, মহাকাশের নতুন সীমান্তে ভারতের যাত্রায় বিশ্ব অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
–আইএএনএস



















