আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর: স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ বলেন, রক্তদান মানবসেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। একজন মানুষকে সরাসরি জীবনদানের সুযোগ করে দেয় রক্তদান। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসা উচিত।
আজ মোহনপুরে, মোহনপুর ইলেকট্রিক রিকশা শ্রমিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এই কথা বলেন।
রক্তদান শিবিরের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, রক্তের কোনও ধর্ম, বর্ণ বা জাত নেই। একজনের দান করা রক্ত অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই রক্তদান মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে।
রতন লাল নাথ বলেন সরকার অর্থ ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দিতে পারে, কিন্তু সরকার রক্তদান করতে পারে না। একজন মানুষের রক্তই আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদানে সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি রাজ্যের নাগরিকদের আরও বেশি সংখ্যায় রক্তদান শিবিরে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
মন্ত্রী জানান, ত্রিপুরায় প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। অথচ সাধারণত সংগৃহীত হয় প্রায় ৪২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ইউনিট। ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
মোহনপুর ইলেকট্রিক রিকশা শ্রমিক সংঘের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন সংগঠন, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি আরও বেশি করে আয়োজন করা প্রয়োজন। রক্তদান শিবিরের সঙ্গে যুক্ত সকলকে তিনি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এরপর মন্ত্রী রোটারি ক্লাব অব অ্যাস্পায়ারিং আগরতলা শাখার উদ্যোগে মোহনপুর দ্বাদশ শ্রেণির বিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি চক্ষু শিবিরে অংশ নেন। শিবিরে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী উপকারভোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় মানবিক প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করে রতন লাল নাথ বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। বিশেষ করে যাঁরা নানা কারণে সহজে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চক্ষু শিবির আয়োজনের জন্য রোটারি ক্লাব অব অ্যাসপায়ারিং আগরতলা শাখার কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী। একইসঙ্গে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের ধারাবাহিক ভূমিকার জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রক্তদান, চক্ষু চিকিৎসা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ একটি সুস্থ, সহানুভূতিশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



















