আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর: বিরোধীদের রাজনীতির কোনো মৌলিক জ্ঞান নেই, কারণ তারা শুধু মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই রাজনীতি করে আসছে। ভারতীয় জনতা পার্টির ৪-বড়জলা মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা একথা বলেন।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সামনে আমাদের অনেকগুলো নির্বাচন আসছে। ভিলেজ কমিটি নির্বাচন আসছে এবং আমরা এনডিএ জোটকে সাথে নিয়ে সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। কিন্তু কিছুদিন ধরে বিভাজন করো এবং শাসন করো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৭৮ সালের কথা মানুষের মনে থাকবে, কীভাবে সিপিএম সরকার গঠন করেছিল। তারা ৩৫ বছর রাজ্য শাসন করেছে। সব জায়গায় ছিল লাল পতাকা এবং লাল সিগন্যাল—পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরাতেও।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে রাজ্যের মানুষ এক অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে। বিশেষ করে বড়জলা এলাকায়। আমার কাছে যেমন তথ্য আছে, তাদের অনেকেই এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা কী তালিকা তৈরি করবে, আমরা আগেই সেই তালিকা তৈরি করে ফেলেছি। মানুষ তাদের আর কখনোই গ্রহণ করবে না। তারা এখনো ১৯৭৮ সালের চিন্তাভাবনা বহন করছে যে কীভাবে তারা সরকার গঠন করতে পারে, এবং নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কংগ্রেস এখন সিপিএম-এর সাথে জোটে এসেছে। তারা শুধু চেয়ার বা ক্ষমতা চায় এবং ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে আমরা দেখেছি কংগ্রেস দলীয় কার্যালয় থেকে সিপিএম-এর পতাকা বের করা হচ্ছে এবং বিপরীতটাও ঘটছে। বিজেপি এমন একটি দল যেখানে আপনি যদি কংগ্রেসকে অনুসরণ করেন তবে রাজনীতি করতে পারবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপি দেশ তথা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম দল।বিজেপির গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের পর আগরতলা পুরনিগম এবং নগর পঞ্চায়েত সহ স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতবার আমরা ২০টির মধ্যে ২০টি আসনেই জিতেছিলাম। এবারও সেটাই হতে চলেছে। রাজনীতিতে মানুষ এমন কাউকে চায় যাকে তারা বিশ্বাস করতে পারে ও আস্থা রাখতে পারে। পেশী শক্তি দিয়ে রাজনীতি করা যায় না। আমাদের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা সবাইকে জল, ঘর, নিখরচায় খাবার এবং গ্যাস সংযোগ দিচ্ছি। এসব বিষয়ে রাজনীতি আনা কেন? সেই কারণেই মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আশীর্বাদ করছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতো একজন অভিভাবক রয়েছেন, যিনি শুধু মানুষের কথা ভাবেন এবং কীভাবে উন্নয়নের জন্য কাজ করা যায় তা চিন্তা করেন। আমাদের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। আমাদের রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়, সহ সভাপতি রতন ঘোষ, বড়জলা মন্ডলের সভাপতি রাজীব ঘোষ, সদর গ্রামীণের সহ সভাপতি কাজল দে সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।


















