আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর: ১১ দফা দাবিকে সামনে রেখে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ত্রিপুরার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনের অন্তর্গত সাতটি সংগঠনের ডাকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে ৭২ ঘণ্টার আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ।
শুক্রবার ভোরে বড়মুড়া চন্দ্র সাধুপাড়া এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এর জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়কে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়ে বহু যানবাহন। ফলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন সাধারণ যাত্রী, চালক এবং নিত্যযাত্রীরা।
অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড়মুড়া চন্দ্র সাধুপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবির সমর্থনে স্লোগান দেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অবরোধের জেরে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণেও সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অবরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তরফে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বড়মুড়া চন্দ্র সাধুপাড়া এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
শুধু বড়মুড়া এলাকাতেই নয়, আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য যোগাযোগ পথেও। জানা গেছে, রেলপথে বিঘুদাসপাড়া এবং সড়কপথে খোয়াই চৌমুহনী এলাকাতেও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
ফলে সড়ক ও রেল—দুই যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান ও রেল চলাচল ব্যাহত হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠক। পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত ১১ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থান অনড় রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের ১১ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার অবরোধ চলবে। ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সড়ক ও অন্যান্য যোগাযোগ পথ অবরুদ্ধ থাকার ফলে ত্রিপুরার সঙ্গে বহিরাজ্যের যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহণে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়ক রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় অবরোধের প্রভাব বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



















