নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আসন্ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার আরও গভীর করার উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ বাণিজ্যে প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় কম শুল্কে প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, প্রায় ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির অর্থনীতিগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা ভারতের নয়টি এফটিএ ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে এই এফটিএগুলির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়, রাজ্য ও স্থানীয় স্তরে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে কাজে লাগানো একটি প্রচারমূলক কর্মসূচি’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান এফটিএ নেটওয়ার্ককে দেশের ব্যবসাগুলির জন্য আরও বেশি রফতানির সুযোগে পরিণত করতে হবে।
গোয়েল বলেন, এই উদ্যোগ দ্রুত গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং দেশের ৭৮০টি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার ছোট ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের কাছেও এর সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। তাঁর কথায়, ছোট-বড় প্রত্যেকের অবদান ভারতকে একটি মূলত অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর অর্থনীতি থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শক্তিতে পরিণত করার বৃহত্তর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী কয়েক মাস ও পরবর্তী কয়েক বছরে কানাডা, মেক্সিকো, চিলি, মার্কোসুর, স্যাকু, জিসিসি এবং ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের আরও এফটিএ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান গোয়েল। পাশাপাশি আসিয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ব্যবস্থার পর্যালোচনা কিংবা বৃহত্তর বাজার-প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গে গোয়েল প্রথম ত্রৈমাসিকে স্থির মূল্যে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যেও ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি ‘নেতিবাচক প্রচারকারীদের’ কথায় প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান। গোয়েল বলেন, জিডিপির পরিসংখ্যান সরকার, মন্ত্রী বা আমলারা তৈরি করেন না। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর একটি স্বাধীন ও বিস্তারিত তৃণমূলভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিসংখ্যান মন্ত্রক এই তথ্য নির্ধারণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক কাঠামোর পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন গোয়েল। তিনি বলেন, দুই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ধরন, পরিচালন ব্যয় এবং শ্রমের খরচ আলাদা। তাই ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগী দেশগুলি অন্যান্য বাজারে কী ধরনের শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়েই ভারতকে এগোতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারতকে অগ্রাধিকারমূলক শুল্কহার দিতে সক্ষম হবে, তখনই দু’দেশের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য ঘোষণা করা হবে।
চলতি বছরে ভারত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য ও পরিষেবা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।



















