নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো উদযাপন নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর জারি করা একগুচ্ছ ‘নির্দেশিকা’ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া সীমিত করার ভিএইচপির আহ্বানকে কেন্দ্র করে জেডিইউ, কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দলের নেতারা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।
ভিএইচপির নির্দেশিকা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেডিইউ-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক শ্যাম রজক দুর্গাপুজোর সময় মাংস ও মাছ বিক্রি বন্ধ রাখার প্রস্তাবকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন। তবে একইসঙ্গে দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত কিছু ধর্মীয় প্রথায় পশুবলির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বলির পর প্রাপ্ত মাংস নিয়ে কী করা হবে।
রজক বলেন, “দুর্গাপুজোর সময় মাংস ও মাছ বিক্রি বন্ধ করা ভালো বিষয়। তবে একটি প্রশ্ন রয়েছে—দুর্গাপুজোর সময় অনেকে পশুবলি দেন এবং পশুবলি কিছু ধর্মীয় প্রথা ও ঐতিহ্যের অংশ। সেই বলির পর মাংস নিয়ে কী হবে? মানুষ কি তা ব্যবহার করতে পারবেন?”
তিনি ভিএইচপিকে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনটি যদি মাছ-মাংস বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাহলে প্রথমে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির কাছে পশুবলির প্রথা বন্ধ করার আবেদন করা উচিত।
ভিএইচপির অবস্থানকে সমর্থন করেছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ইন্দ্রপ্রস্থ প্রদেশের সভাপতি উপাসনা অরোরা। দিল্লিতে তিনি বলেন, ভিএইচপির নির্দেশিকাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এবং এটি দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্যবাহী প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অরোরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখে আসছেন যে দুর্গাপুজোর সময় অনেক পরিবারে সাধারণত মাংস ও মদ খাওয়া বন্ধ রাখা হয়। এমনকি এই সময় তিনি নিজের বাড়িতে পেঁয়াজও ঢুকতে দেন না বলে জানান।
তাঁর মতে, এই ধরনের প্রথা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ এবং সেই মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্ব ভিএইচপির রয়েছে।
তবে ভিএইচপির দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ। তাঁর প্রশ্ন, মানুষ কী খাবেন বা কী খাবেন না, তা নির্ধারণ করার অধিকার ভিএইচপিকে কে দিয়েছে।
উদিত রাজ বলেন, “মানুষ কী করবে, তা নির্ধারণ করার জন্য তারা কারা? তারা কি নির্বাচিত প্রতিনিধি? তারা যা করছে, তা ভুল প্রচার তৈরি করছে। কে কী খাবেন এবং কী খাবার পাবেন, তা সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। এই বিষয়ে কোনও সার্কুলার জারি করার অধিকার তাদের নেই।”
উল্লেখ্য, বাংলায় দুর্গাপুজোর আগে শুক্রবার ভিএইচপি তাদের নির্দেশিকা প্রকাশ করে। সংগঠনটি পুজোর আয়োজনকে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে পুজোর মণ্ডপ এবং তার আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়।
তবে ভিএইচপি স্পষ্ট করেছে, দুর্গাপুজোর সময় গোটা বাংলায় আমিষ খাবারের উপর কোনও সার্বিক নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হচ্ছে না। সংগঠনটি স্বীকার করেছে যে বাংলার দুর্গাপুজো ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ নিরামিষ প্রথা অনুসরণ করে না। তবে দেবীর প্রতিমার পবিত্রতা বজায় রাখা এবং প্রতিমাকে আমিষ খাবারের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার উপর জোর দিয়েছে তারা।
ভিএইচপির এই নির্দেশিকা ঘিরে ধর্মীয় ঐতিহ্য, খাদ্যাভ্যাস, সাংস্কৃতিক রীতি এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আশপাশের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
—আইএএনএস



















