সোনামুড়া, ২৮ আগস্ট: আড়ালিয়া এলাকার হাজারো মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রাস্তা বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বড় বড় খানাখন্দ ও গর্তে ভরা এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েও কাজ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের বক্তব্য, আড়ালিয়া এলাকার মানুষের কাছে এই রাস্তা কার্যত একমাত্র লাইফলাইন। প্রতিদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, জরুরি পরিষেবা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনেও এই রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। এমনকি কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হয় বলে দাবি তাঁদের।
রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এর আগেও একাধিকবার প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। ফলে ফের প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন আড়ালিয়াবাসী।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী জমি দেওয়া হলেও রাস্তার নির্মাণকাজ অর্ধেক হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর থেকে বাকি কাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বাসিন্দারা।
সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে এবার পিডব্লিউডি দপ্তরের দ্বারস্থ হন এলাকাবাসী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত রাস্তার বাকি কাজ সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেন পিডব্লিউডির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব তরণ।
তবে এবার শুধু আশ্বাসে আর ভরসা রাখতে চাইছেন না আড়ালিয়াবাসী। তাঁদের দাবি, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। একই দিনে সোনামুড়ার চারটি প্রধান সড়ক অবরোধ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
এখন দেখার বিষয়, পিডব্লিউডি ও প্রশাসনের আশ্বাস কতটা বাস্তবে কার্যকর হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হলে আড়ালিয়াবাসীর আন্দোলন কোন পথে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার মানুষ।


















