জয়পুর, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই ‘নারী শক্তি বন্দন (সংশোধনী) বিল’ কার্যকর করতে সরকার আগ্রহী বলে জানালেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। শুক্রবার আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিলটি কার্যকর করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
মেঘওয়াল বলেন, বাজেট অধিবেশনেও এই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সংসদে আইন পাস হওয়ার পর সেটি কার্যকর না থাকলে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার কাছে সরকারকে জবাব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “নারী শক্তি বন্দন বিলের বিষয়টি খুবই সক্রিয়ভাবে বিবেচনাধীন। বাজেট অধিবেশনেও আমরা এ বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। ২০২৯ সালের নির্বাচনে যাওয়ার আগেই নারী শক্তি বন্দন বিল কার্যকর হওয়া উচিত। সংসদে আইন পাস হওয়ার পরও যদি তা কার্যকর না হয়, তাহলে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে আমরা কী বলব?”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, “এখন মূল লক্ষ্য হল এর বাস্তবায়ন। বাস্তবায়নের বিষয়টি চলছে, প্রক্রিয়াও চলছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সংবিধানের ১২৮তম সংশোধনী আইন, যা ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ নামে পরিচিত, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। পরবর্তী জনগণনা সম্পন্ন হওয়ার পর সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে রাজস্থানে আসন্ন স্থানীয় সংস্থা নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন মেঘওয়াল। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপির পক্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। কেন্দ্রে এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসনেও বিজেপিকে ক্ষমতায় দেখতে চাইছেন মানুষ, বলে দাবি করেন তিনি।
মেঘওয়াল বলেন, স্থানীয় সরকারও বিজেপির হাতে থাকলে কেন্দ্র, রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকবে এবং উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে। পাশাপাশি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার সরকারের কাজের ‘রিপোর্ট কার্ড’ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করেছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানতে চান, প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বিল পাস করার জন্য সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকবে কি না। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা খাড়গে জানান, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনার কথা বলার পরই তিনি ফের এই দাবি জানিয়েছেন। বর্ষাকালীন অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পরও তা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত বা প্রোরোগ না করার বিষয়টিকেও তিনি বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
এর আগে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও লোকসভা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হওয়ার পর কেন এখনও প্রোরোগ করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী এবং ডিলিমিটেশন নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।


















