গুয়াহাটি, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): কৃষি উদ্যোগপতি এবং ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (এফপিও)-গুলিকে আর্থিকভাবে আরও সহায়তা দিতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শুক্রবার তিনি জানান, এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড-এর আওতায় কৃষি উদ্যোগপতি ও এফপিওগুলি সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কম সুদের ঋণ পাবেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফরমালাইজেশন অব মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজেস প্রকল্পের সুবিধাও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একত্রে নেওয়া যাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষি পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এআইএফ প্রকল্পের আওতায় ঋণ নেওয়া সুবিধাভোগীরাও প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এআইএফ প্রকল্পের অধীনে যোগ্য কৃষি পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য ঋণের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ সুদে ছাড় দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পিএমএফএমই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলিকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত মূলধনী ভর্তুকি দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং কমন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জন্য সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে।
দুটি প্রকল্পের সুবিধা একত্রে পাওয়ার ফলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং কৃষি-সহায়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত উদ্যোগগুলির জন্য আর্থিক সহায়তা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে পরিকাঠামো গড়ে তোলা, ব্যবসার পরিধি বাড়ানো এবং কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে উদ্যোগপতিদের সুবিধা হবে।
এআইএফ মূলত ফসল কাটার পরবর্তী পরিকাঠামো এবং কমিউনিটি ফার্মিং অ্যাসেট তৈরিতে বিনিয়োগে সহায়তা করে। অন্যদিকে প্রকল্পের লক্ষ্য ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে আধুনিকীকরণ ও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা।
দুটি প্রকল্পের সুবিধা একত্রে দেওয়ার ফলে ঋণের আর্থিক চাপ কমার পাশাপাশি কৃষি উদ্যোগপতি ও এফপিওগুলির মূলধনে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরিতে কৃষি উদ্যোগ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্য সংযোজনকে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।



















