কাঠমান্ডু, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): চিনের তিব্বত অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া ভয়াবহ বন্যায় নেপালের ভোতেকোশি নদী প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অভি নারায়ণ কাফলে জানান, ভয়াবহ বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া ১৯ জনের দেহ বুধবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বন্যার পর ২৮ জন নেপাল পুলিশকর্মীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একটি হিমবাহ ধসের কারণে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। প্রবল জলের স্রোত ভোতেকোশি নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি ভোতেকোশি নদীর নিম্ন অববাহিকা এবং ত্রিশূলী নদীর আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক করতে সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংকের ২৬ জন কর্মীরও এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নেপাল ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনিল শর্মাকে উদ্ধৃত করে অনলাইনখবর জানিয়েছে, আটটি ব্যাংকের ওই কর্মীরা বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে নেপাল সরকার জানিয়েছে, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ১১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের মুখপাত্র তথা শিক্ষামন্ত্রী শশ্মিত পোখরেল জানিয়েছেন, উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা ২৫ জন আহত ব্যক্তি উপত্যকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া রাসুয়া জেলার একটি স্থানীয় হাসপাতালে আরও ২১ জনের চিকিৎসা চলছে।
বিপর্যস্ত নেপালের উদ্ধার ও পুনর্গঠন কাজে ভারত, চিন এবং বিশ্বব্যাংক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলের সচিবালয় জানিয়েছে, বন্যার খবর পাওয়ার পর সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বিশ্বব্যাংকের নেপাল কান্ট্রি ডিরেক্টর ডেভিড সিসলেন অর্থমন্ত্রীকে জানান, বিভিন্ন উৎস থেকে জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি পর্যন্ত সহায়তা সংহত করা যেতে পারে।
সচিবালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নেপালের প্রতিবেশী দেশ ভারত বন্যাদুর্গতদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর তালিকা দিতে নেপাল সরকারকে অনুরোধ করেছে। অন্যদিকে চিনও তাৎক্ষণিক নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার নেপালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকাগুলিকে ‘দুর্যোগ সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দুর্গত এলাকাগুলিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার পথ আরও সহজ হবে।
























