শ্রীনগর, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর কেন্দ্রীয় জেল থেকে পালিয়ে যাওয়া ধর্ষণ মামলার দুই অভিযুক্তকে বুধবার রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
আধিকারিকরা জানান, শ্রীনগর পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফারমান খান এবং মুখতার গুজ্জরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার পরবর্তী তদন্ত চলছে।
দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন বা পকসো (POCSO) আইনে মামলা রয়েছে। আধিকারিকদের মতে, গত ২৩ আগস্ট শ্রীনগরের উচ্চ-নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় জেলের সামনের দিকের দেওয়াল টপকে তাঁরা পালিয়ে যান।
ফারমান খান রাজস্থানের সদনপোরা এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে মুখতার গুজ্জর দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার সাংলান চিত্তেরগুল এলাকার বাসিন্দা।
দুই বন্দি পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছিল। কীভাবে তাঁরা নিরাপত্তাবেষ্টিত জেল থেকে পালাতে সক্ষম হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রীনগর কেন্দ্রীয় জেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ)। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জম্মুর কেন্দ্রীয় জেলের পাশাপাশি শ্রীনগর কেন্দ্রীয় জেলেও সশস্ত্র নিরাপত্তার দায়িত্বে সিআইএসএফ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়। প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই বাহিনী।
আধিকারিকরা জানান, ফারমান খানকে গত ২৩ জুন শ্রীনগর জেলে পাঠানো হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবল জেলার লার থানায় নথিভুক্ত একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারা এবং পকসো আইনের ৩ ও ৪ নম্বরে ধারায় মামলা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে মুখতার গুজ্জরকে গত ১৩ এপ্রিল জেলে পাঠানো হয়। শ্রীনগরের সওরা থানায় নথিভুক্ত পৃথক একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধেও বিএনএসের বিভিন্ন ধারা এবং পকসো আইনের ৩ ও ৪ নম্বর ধারায় মামলা রয়েছে।
পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ দু’জনের ছবি ও পরিচয়-সহ ‘ওয়ান্টেড’ নোটিস জারি করেছিল। তাঁদের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে দুই পলাতক বন্দির বিষয়ে কোনও তথ্য থাকলে নিকটবর্তী থানায় জানানো অথবা ১১২ নম্বরে ফোন করার আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ।
–আইএএনএস



















