উলানবাটার, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): তৃণভূমি ও চারণভূমি পুনরুদ্ধারে স্থানীয় সম্প্রদায়কে নেতৃত্বে রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগের ওপর জোর দিল ভারত। পাশাপাশি এই বাস্তুতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে পশুপালক সম্প্রদায়ের ভূমিকার স্বীকৃতি এবং টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গোলিয়ার উলানবাটারে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (ইউএনসিসিডি) ১৭তম কনফারেন্স অব পার্টিজ-এ এই বার্তা দিয়েছে ভারত।
‘তৃণভূমি পুনরুদ্ধার ও পশুপালক সম্প্রদায়ের কল্যাণ’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব তৃণভূমি ও চারণভূমি পুনরুদ্ধারে ভারতের বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাদব বলেন, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রাখতে হবে পশুপালকদের। তাঁদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করেই কার্যকর উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “সফল পুনরুদ্ধারের সূচনা হয় পশুপালকদের এই বাস্তুতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে, শুধুমাত্র সুবিধাভোগী হিসেবে নয়।” ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয় পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে পরিবেশগতভাবে কার্যকর, অর্থনৈতিকভাবে টেকসই এবং সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যাদব জানান, ভারতের তৃণভূমি ও চারণভূমি হিমালয়ের চারণভূমি, মধ্য ভারতের সাভানা, শুষ্ক থর ও কচ্ছ অঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের শোলা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বাস্তুতন্ত্র দেশের বিপুল সংখ্যক পশুসম্পদ ও মানুষের জীবন-জীবিকাকে সমর্থন করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জল ও কার্বন চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তৃণভূমি চিহ্নিতকরণ এবং পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে উপগ্রহ-নির্ভর মরুকরণ ও ভূমিক্ষয় অ্যাটলাস ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। একইসঙ্গে চারণ অধিকার এবং কমিউনিটি ফরেস্ট রিসোর্স বা সম্প্রদায়ের বনসম্পদ ব্যবহারের অধিকার স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা যায় বলে জানান তিনি।
ভারতের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে রাজস্থানের ‘ওরান’-এর কথা উল্লেখ করেন যাদব। স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পবিত্র বনাঞ্চলগুলি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত হয়ে আসছে। মন্ত্রকের দাবি, দেশে প্রায় ২৫ হাজার এমন সম্প্রদায়-রক্ষিত পবিত্র বনাঞ্চল রয়েছে, যেগুলির মোট আয়তন প্রায় ৬ লক্ষ হেক্টর। এগুলি সম্প্রদায়ের তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই অঞ্চলগুলি পশুপালকদের জমির অধিকার সুরক্ষিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সংরক্ষণেও সহায়তা করে। এর মধ্যে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ডের মতো বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থলও রয়েছে। যাদব জানান, এই পবিত্র বনাঞ্চলগুলির অনেকগুলিই আইনি বিধানের আওতায় সুরক্ষিত।
ভারতে উন্মুক্ত বন ও তৃণভূমির বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর মধ্যে চিতা পুনঃপ্রবর্তন এবং গুজরাটের বান্নির মতো তৃণভূমি অঞ্চলে এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
যাদব জানান, গভীর শিকড়যুক্ত ঘাস মাটিতে কার্বন সঞ্চয়, জলের অনুপ্রবেশ এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতে প্রায় ১ কোটি হেক্টর স্থায়ী চারণভূমি ও পশুচারণ জমি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, “ভারতের পদ্ধতিতে ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনা, জলাধার উন্নয়ন, টেকসই চারণ, পশুখাদ্য উন্নয়ন এবং জীবিকা সহায়তাকে একত্রিত করা হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ।”
উন্নয়নশীল দেশগুলি যখন ভূমিক্ষয় নিরপেক্ষতার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, তখন তৃণভূমি পুনরুদ্ধারে অর্থ, প্রযুক্তি এবং জ্ঞানের আরও সহজলভ্যতার আহ্বান জানান যাদব।
তিনি বলেন, “তৃণভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দিষ্ট ও সহজলভ্য অর্থায়নকে ভারত স্বাগত জানায়। দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত তার অভিজ্ঞতা ও সমাধানগুলি ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”



















