নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): এলাহাবাদ হাইকোর্টের স্কুলের পোশাকবিধি সংক্রান্ত রায়ের সমালোচনা করায় এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে বুধবার তীব্র আক্রমণ করলেন এনডিএ-র একাধিক নেতা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষা ও অগ্রগতির মতো বিষয়কে ওয়াইসি ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য ব্যবহার করছেন এবং হিজাব ইস্যুতে ‘সাম্প্রদায়িক রং’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রয়াগরাজের একটি স্কুলের এক নাবালিকা ছাত্রী নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন ওয়াইসি।
মঙ্গলবার দারুস সালামে এআইএমআইএম সদর দফতরে আয়োজিত এক সভায় ওয়াইসি বলেন, তিনি হাইকোর্টের রায়ের সঙ্গে একমত নন। তাঁর দাবি, এই রায় ভারতীয় সংবিধানের ২৫ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, “মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়। এটি ইসলামের ওপর আক্রমণ।”
ওয়াইসির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি সাংসদ গুলাম আলি খাতানা বলেন, ইসলাম যে দেশে বসবাস করা হয়, সেই দেশের আইন ও নিয়মকানুনকে সম্মান করতে শেখায়।
আইএএনএসকে খাতানা বলেন, “ওয়াইসি তাঁর নিজস্ব ধরনের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করেন। ইসলাম শিক্ষা দেয়, আপনি যে দেশেই থাকুন না কেন, সেই দেশের নিয়ম, আইন এবং পরিচয় সংক্রান্ত বিধি মেনে চলতে ও সম্মান করতে হবে। সেগুলির পথে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।”
শিবসেনার মুখপাত্র শাইনা এনসি বলেন, হিজাব পরার বিরোধিতা কেউ করছেন না, তবে মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
আইএএনএসকে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমরা হিজাব পরার বিরোধী নই। কিন্তু ইসলামে মহিলাদের হিজাব পরতেই হবে, এমন কোথাও বলা নেই। আসাদউদ্দিন ওয়াইসির অবশ্যই নিজস্ব ভোটব্যাঙ্কের রাজনৈতিক agenda রয়েছে। তিনি যতদিন খুশি তর্ক করতে পারেন। কিন্তু বুঝতে হবে, ইউনিফর্মের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখা হয়, যা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিফলন।”
বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভিও ওয়াইসির বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এআইএমআইএম প্রধান শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়কে ‘সাম্প্রদায়িক রং’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আইএএনএসকে নকভি বলেন, “কিছু মানুষ তালিবানি কায়দায় মুসলিম মেয়েদের শিক্ষা ও অগ্রগতিকে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন। আর তার নাম করে কখনও হিজাব নিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, আবার কখনও তাঁদের শিক্ষা ও অগ্রগতিতে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ীই দেশের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ভারতে হিজাব নিষিদ্ধ নয় এবং বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে হিজাব নিষিদ্ধ হলেও ভারতে এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি রয়েছে এবং প্রত্যেকেরই তা সম্মান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, আবেদনকারী এমন কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ বা অন্য কোনও উপাদান পেশ করতে পারেননি, যা প্রমাণ করে যে মাথায় স্কার্ফ পরা তাঁর ধর্মের ‘অপরিহার্য’ অংশ এবং তা ছাড়া তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আদালত আরও উল্লেখ করে, মামলায় জমা দেওয়া ছবিতে একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্যান্য ছাত্রীদের স্কার্ফ ছাড়াই স্কুলে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।
–আইএএনএস
sd/rad



















