কলকাতা, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): রাতভর ভারী বৃষ্টির পর মঙ্গলবার ভোরে উত্তর কলকাতার শিমলা-বিডন স্ট্রিট এলাকায় প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি বাড়ি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১৯ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মৃত মহিলার নাম উর্মিলা শ। উত্তর কলকাতার ব্যস্ত গিরিশ পার্ক ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কাছে ব্রজদুলাল স্ট্রিটে বাড়িটি অবস্থিত।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে কোনও কাজে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন উর্মিলা শ। সেই সময় আচমকাই বাড়িটি ভেঙে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ দমকল দফতর, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী-র কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ১৯ জনকে উদ্ধারের জন্য জোরকদমে অভিযান চলছে।
প্রায় ২০০ বছরের পুরনো তিনতলা বাড়িটিতে ঢোকা ও বেরোনোর জন্য মাত্র একটি পথ রয়েছে। জানা গেছে, কলকাতা পুরসভা অনেক আগেই বাড়িটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল। তা সত্ত্বেও সেখানে প্রায় ২০ জন বসবাস করছিলেন।
বাড়িটির সামনে অত্যন্ত সরু একটি গলি থাকায় উদ্ধারকাজে আরও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ভারী উদ্ধারকারী সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মঙ্গলবার ভোরে আচমকা বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দেখেন, রাতভর বৃষ্টির পর বাড়িটি ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে ধ্বংসস্তূপের নিচে উর্মিলার দেহ দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় কলকাতা পুরসভাকে। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন এবং তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জানা গেছে, তাঁর স্বামী ও ছেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ১৯ জনের মধ্যে রয়েছেন।
সূত্রের খবর, বাড়িটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের বারবার বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অথবা পুরনো তিনতলা বাড়িটির সম্পূর্ণ সংস্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
বাড়িটির কয়েকজন পুরনো বাসিন্দা পুরসভার পরামর্শ মেনে সেখান থেকে চলে গেলেও বাকিরা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বাড়িটিতে বসবাস চালিয়ে যান।



















