নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ আগস্ট:
নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে শ্রমিকদের আরও বেশি সচেতন করে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পগুলির সুবিধা প্রকৃত সুভিধাভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। আজ সচিবালয়ে ত্রিপুরা বিল্ডিং অ্যান্ড আদার কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের এক পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
সভায় নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ, বোর্ডের কাজকর্ম, আর্থিক সংস্থান, প্রকল্পের সুবিধা প্রদান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভার শুরুতেই সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায় স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে ত্রিপুরা বিল্ডিং অ্যান্ড আদার কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা সমাজ ও রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের কঠোর পরিশ্রমের উপর নির্ভর করেই গড়ে ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন স্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকাঠামো। তাই তাদের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প ও সহায়তা চালু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জন্য সরকার কী কী সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে এসেছে, সেবিষয়ে তাদের আরও বেশি করে অবগত করতে হবে। শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাম, শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা এবং বিভিন্ন পরিকাঠামোর নির্মাণস্থলে আরও বেশি করে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করতে হবে। শ্রমিকরা যাতে নিজেদের অধিকার ও প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে জানেন এবং প্রয়োজনের সময় সহজেই সেই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার উপর মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার একটি মানবিক ও জনকল্যাণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে। সমাজের শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। নির্মাণ শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও সরকারের সেই বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গিরই অংশ বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সভায় বোর্ডের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় সচিব তাপস রায় বলেন, বর্তমানে বোর্ডের অধীনে ৪৫,৩৯০ জন নির্মাণ শ্রমিক নিবন্ধিত রয়েছেন। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী এবং বিগত ১২ মাসে ন্যূনতম ৯০ দিন নির্মাণ কাজে যুক্ত থাকা শ্রমিকরা নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। নির্মাণ শ্রমিকদের কল্যাণে বোর্ডের অধীনে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প ২.০-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহ সহায়তা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, প্রতিবন্ধী ভাতা, পেনশন, মৃত্যুজনিত সহায়তা এবং শেষকৃত্য সহায়তা। বিবাহ সহায়তা হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা হিসেবে ৮ হাজার টাকা এবং নির্ধারিত হারে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিক ও তাদের নির্ভরশীলদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা কভারেজ রয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে সেস সংগ্রহে ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। শ্রমিকদের কল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক বৃদ্ধি হয়েছে। সভায় বোর্ডের নতুন উদ্যোগগুলিও পর্যালোচনা করা হয়। শ্রমিকদের সুবিধার্থে ডায়নামিক ওয়েবভিত্তিক অ্যাপ ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন এবং কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে জানান সচিব। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইন শ্রম সেস পোর্টালও তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও ২০২৪-২৫ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮,০০৪ জন নির্মাণ শ্রমিককে মোট ১৫.২০ কোটি টাকা বন্যা ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে সভায় তিনি বলেন।
সভায় সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সচিব অপূর্ব রায়-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আলোচনায় অংশ নিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন।
























