আগরতলা, ১৭ আগস্ট: রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) আরও বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। তবে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় বাধা। কর্মীদের ডিএ নিয়ে এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বরং রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে ডিএ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়।
এদিন অর্থমন্ত্রী বলপন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও ত্রিপুরা সরকারের কর্মীদের মধ্যে ডিএ-র ব্যবধান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে ব্যবধান প্রায় ১৯ শতাংশ পয়েন্ট। কেন্দ্রের পরপর ডিএ বৃদ্ধির ফলে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ধাপে ধাপে এই ব্যবধান কমানোর বিষয়ে উদ্যোগী বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ডিএ আরও বাড়াতে হলে রাজ্যের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কতটা পড়বে, তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, কর্মীদের আরও বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। কারণ কর্মীদের অবহেলা করে কোনও সরকারই কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না।
এদিকে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগে ত্রিপুরা বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রেভিনিউ গ্যাপ ফান্ডের মাধ্যমে পেত। ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত রাজ্যের জন্য এই তহবিল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবর্তে রাজ্যগুলিকে নিজেদের রাজস্ব আয় বাড়ানোর উপর জোর দিতে বলা হয়েছে।
তাঁর দাবি, গত আট বছর ধরে রাজ্যে কোনও নতুন কর আরোপ করা হয়নি। বর্তমানে সরকার নবম বছরে প্রবেশ করলেও সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা বাড়ানো হয়নি। ফলে কর্মীদের আরও আর্থিক সুবিধা দিতে গেলে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন বলে সরকারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের সম্ভাব্য উৎস নিয়েও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। ডিএ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিস্তারিত আলোচনা চলছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন বলে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে একাধিকবার আনা হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে ডিএ বৃদ্ধির বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হবে।



















