নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসের আগে ISI-সমর্থিত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক-এর নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে সন্ত্রাসী সংগঠনটির বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার জানিয়েছেন, এই অভিযানে ২০০-র বেশি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক্স-এ অমিত শাহ জানান, স্বাধীনতা দিবসের আগে মোদি সরকার আইএসআই-সমর্থিত এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করেছে এবং ২০০-র বেশি সদস্যকে গ্রেফতার করে তাদের নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা বানচাল করা হয়েছে।
তিনি জানান, ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গোটা নেটওয়ার্কটি ভেঙে দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযানে আইএসআই-অর্থপুষ্ট এই নেটওয়ার্কের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইইডি, পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত গ্রেনেড, পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ এবং গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা। অমিত শাহের দাবি, নেটওয়ার্কটি একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সম্প্রতি শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের মামলায় একাধিক গ্রেফতারের পর এই অভিযান চালানো হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ পাকিস্তান-যোগ থাকা এই সন্ত্রাস ও গুপ্তচরবৃত্তি মডিউলের দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য মহম্মদ হামীম মণ্ডল এবং তাঁর সহযোগী তথা বান্ধবী অর্পিতা সরকার।
আধিকারিকদের দাবি, অর্পিতা সরকারের মাধ্যমে এসবিএন পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার অন্তত ছয় জন বর্তমান সদস্যের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করেছিল। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এনক্রিপ্টেড বার্তার মাধ্যমে এসবিএন-এর হ্যান্ডলাররা অর্পিতা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ সংশ্লিষ্ট নজরদারি ও গুপ্তচরবৃত্তির নেটওয়ার্কগুলির বিরুদ্ধেও তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের লিঙ্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য এখনও অপেক্ষমাণ।
_______



















