নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ব্রিকস-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরল ভারত। সোমবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পরিবেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ-ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভা-এ ভারত জানায়, অর্থনৈতিক সংলাপের পরিসর ছাড়িয়ে ব্রিকস এখন দূষণ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি প্রভাবশালী মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের সচিব তন্ময় কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ ব্রিকস-এর সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মূল বক্তব্যে তন্ময় কুমার বলেন, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সার্কুলার ইকোনমি এবং পরিবেশগত প্রশাসনের মতো ক্ষেত্রে ব্রিকস-এর অংশীদারিত্বের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মানবতাকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে ব্রিকস ২০২৬-এর নেতৃত্ব এগিয়ে চলেছে। ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা—‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’—এর মধ্যেও এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে।
ভারত উন্নয়নের লক্ষ্যগুলির সঙ্গে পরিবেশগত স্থায়িত্বকে যুক্ত করে পরিবেশ সংক্রান্ত পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। বৈঠকে তন্ময় কুমার আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানের যে চেতনা এতদিন ব্রিকস-এর আলোচনা ও সংলাপকে পরিচালিত করেছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ব্রিকস-এর সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিরা ভারতের সফল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা আয়োজনের জন্য তাঁরা ভারতের প্রশংসা করেন।
ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় পরিবেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক যোগাযোগ গ্রুপ চারটি আন্তঃসংযুক্ত অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে গেছে। এগুলি হল—টেকসই জীবনযাত্রার প্রসার, বনায়ন ও বন আগুন ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহনশীলতা, সার্কুলার ইকোনমি এবং অভিযোজন।
সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, এই অগ্রাধিকারগুলি ব্রিকস দেশগুলির অভিন্ন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সেগুলি মোকাবিলায় সম্মিলিত জ্ঞান ও সক্ষমতার প্রতিফলন। জলবায়ু সহনশীলতা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত—এবং এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে সমন্বিত ও সামগ্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১২তম ব্রিকস পরিবেশ মন্ত্রীদের বৈঠক।



















