নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি. চিদম্বরমের ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করল বিজেপি। সোমবার বিজেপি দাবি করেছে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে যে মাওবাদী সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব হয়নি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার তা দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে দলের জাতীয় মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী চিদম্বরমের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান। একইসঙ্গে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ২০০৬ সালের বক্তব্য তুলে ধরে নকশালবাদ নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ত্রিবেদী বলেন, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘দিমাগি নকশাল’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি. চিদম্বরম নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ হিসেবে গর্বিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, নকশালবাদ নিয়ে সঠিক অবস্থানে কে ছিলেন—প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, নাকি চিদম্বরম?
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল মনমোহন সিং নকশালবাদকে দেশের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ত্রিবেদীর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাওবাদী প্রভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ১৮০টিরও বেশি জেলা নকশাল প্রভাবিত ছিল।
তিনি ‘পশুপতি থেকে তিরুপতি’ পর্যন্ত বিস্তৃত ‘রেড করিডর’-এর প্রসঙ্গও তোলেন। ২০১০ সালের দান্তেওয়াড়া হামলার উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, ওই ঘটনায় ৭৫-এরও বেশি সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই সময় দেশের রাজধানীর একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ঘটনার পর উদযাপন করা হয়েছিল, যা তাঁর মতে ‘দিমাগি নকশালবাদ’-এর উদাহরণ।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে নিশানা করে ত্রিবেদী দাবি করেন, বছরের পর বছর যে মাওবাদী সমস্যার সমাধান হয়নি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার তা দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, চিদম্বরম কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় মাওবাদী হিংসায় ৫,০০০-এরও বেশি নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং নকশালবিরোধী অভিযানে ১,৯১৩ জন নিরাপত্তাকর্মী শহিদ হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই সময় ১৮০টি জেলা নকশাল প্রভাবিত ছিল এবং নকশালদের হাতে থাকা ৯২ শতাংশেরও বেশি অস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে লুট করা হয়েছিল।
ত্রিবেদীর দাবি, বর্তমানে সেই ১৮০টি নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে। চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে মোদি সরকার মাওবাদী হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে দমন করতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একইসঙ্গে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় উন্নয়ন ও পরিকাঠামো বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, ওই অঞ্চলগুলিতে ১,৮০০টিরও বেশি ব্যাংক শাখা, ১,২০০টি এটিএম এবং ৬,০০০-এর বেশি মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ত্রিবেদী বলেন, মাওবাদ মোকাবিলা এবং পূর্বে প্রভাবিত এলাকাগুলির উন্নয়নে সরকারের সাফল্য নিয়ে যারা আপত্তি তুলছেন, তাঁদের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদি যে ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতার কথা বলেছেন, তার প্রতিফলন রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে চিদম্বরম লিখেছিলেন, তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ হতে গর্বিত। পরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন তকমারই ‘নতুন সংস্করণ’। তিনি ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ এবং ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো পূর্ববর্তী তকমার উল্লেখ করে দাবি করেন, এগুলি মূলত বিরোধী দলের সদস্যদের নিশানা করেই ব্যবহার করা হয়েছে।
—আইএএনএস



















