পটনা, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার বিহারের লখিসরাই জেলার অশোকধাম মন্দিরের বাইরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত সাতজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১২ জনেরও বেশি। বিপুল সংখ্যক ভক্তের ভিড়ের মধ্যে বিদ্যুতের তার পড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরই হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে জানা গেছে।
লখিসরাইয়ের জেলা শাসক শৈলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে দুটি ট্রেন এসে পৌঁছনোর পর মন্দিরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা আচমকা বেড়ে যায়। প্রবল ভিড়ের চাপে মন্দিরের বাইরে ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে এবং সেখান থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে হাজার হাজার ভক্ত অশোকধাম মন্দিরে জলাভিষেক ও পুজো দিতে জড়ো হয়েছিলেন। মন্দিরটি শ্রী ইন্দ্রদামনেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত এবং শ্রাবণ মাসে এখানে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য পুণ্যার্থীরাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধারকাজ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তিনি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
বিহারের মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, মন্দিরের বাইরে একটি খুঁটি ও বিদ্যুতের তার পড়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং তাতেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে, নিহতদের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। বিজেপির বিহার সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি জানান, সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং দোষীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।


















