কাঠমান্ডু, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালি কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জাতীয় সমাবেশে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বে দলের ১৫তম সাধারণ অধিবেশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেপালি কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক বিভাজনের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৪ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিন ধরে চলা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জাতীয় সমাবেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত বিশেষ সাধারণ অধিবেশনে দেউবার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠী অংশ নেয়নি। ওই অধিবেশনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেউবাকে সরিয়ে গগন থাপাকে নেপালি কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছিল।
দেউবা গোষ্ঠীর আপত্তি সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত ওই বিশেষ সাধারণ অধিবেশনকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুব আন্দোলনের পর জনসমর্থন পুনরুদ্ধারে দলের বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরও নির্বাচনে নেপালি কংগ্রেস ভোটারদের আস্থা ফেরাতে পারেনি। গত ৫ মার্চের নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে নতুন দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল সাফল্য পেয়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে।
নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের জন্য থাপার নেতৃত্বাধীন বর্তমান গোষ্ঠী প্রশ্নের মুখে পড়ার পর দেউবা-সমর্থক বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করে। গত সপ্তাহে পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর দেশে ফেরেন দেউবা। সমাবেশের উদ্বোধনী ও সমাপনী—দুই অধিবেশনেই তিনি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ১৭ এপ্রিল নেপালের সুপ্রিম কোর্ট থাপা গোষ্ঠীকে নেপালি কংগ্রেসের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব নিয়ে তিন মাস ধরে চলা বিরোধের অবসান ঘটে। নির্বাচন কমিশনের থাপা-নেতৃত্বাধীন কমিটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও বহাল রাখে আদালত এবং ওই কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলিকে বৈধতা দেয়।
তবে দেউবা গোষ্ঠী ওই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। তাদের দাবি, আদালতের রায় আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। ২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট সেই পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করে। ফলে থাপা-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর বৈধতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জাতীয় সমাবেশে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দেউবার নির্দেশনায় নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম সমাবেশের সমন্বয়কারী পরিচালনা করবেন। দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শশাঙ্ক কৈরালা ভবিষ্যৎ কর্মসূচির সমন্বয় করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দেউবা-সমর্থক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন।
দেশের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সমাবেশে জাতীয় ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রেও জনসাধারণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। তবে তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং সাংবিধানিক বিধান মেনেই করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া নেপালের জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে সনাতন ধর্মকে আরও প্রসারের কথা বলেছে দেউবা-সমর্থক গোষ্ঠী। একইসঙ্গে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহনশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নেপালের হিন্দু, বৌদ্ধ, কিরাত এবং আদিবাসী ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সমাবেশ।



















