আগরতলা, ১৬ আগস্ট: সীমানা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাব্রুমের মনু থানার কলাছড়ি এলাকায়।পরিবারকে বাঁচাতে রাতেই কলকাতা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি মহিলা চিকিৎসকের।
অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবসের রাতে মৃণাল সেনের বাড়িতে মদ্যপ অবস্থায় চড়াও হন প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও তার ভাই অপু দেবনাথ। প্রথমে বাড়ির গেট ও অন্যান্য অংশে ভাঙচুর চালানোর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকে পরিবারের সদস্যদের খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি আক্রান্ত পরিবারের।
ঘটনার সময় মৃণাল সেনের মেয়ে চিকিৎসক পারমিতা সেন কলকাতায় ছিলেন চাকরিসূত্রে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রাতেই সামাজিক মাধ্যমে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় তাঁদের বাড়িতে বর্তমানে তাঁর বাবা-মা ও ভাই রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ড. পারমিতা সেনের মা গীতা সেনও সামাজিক মাধ্যমে এসে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অপু দেবনাথ তাঁদের পরিবারের উপর বিভিন্নভাবে হামলা ও হেনস্তা চালিয়ে আসছেন। প্রায় এক বছর আগেও বাড়িতে একা থাকার সময় বিশ্বজিৎ দেবনাথ তাঁর উপর হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন গীতা সেন।
অভিযোগ, শনিবার রাতে ফের মদ্যপ অবস্থায় দুই ভাই বাড়িতে এসে প্রথমে গেট ভাঙচুর করেন। এরপর বাড়ির ভিতরে ঢুকে গীতা সেন, তাঁর স্বামী এবং ছেলেকে হেনস্তা ও মারধর করা হয়। গীতা সেনের পোশাক, চশমা ও গলার হার টেনে ছিড়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অভিযুক্তরা নিজেদের শাসকদলের সমর্থক বলে দাবি করে কেউ তাঁদের কিছু করতে পারবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আক্রান্ত পরিবারের।
ঘটনার পর ইতিমধ্যেই বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অপু দেবনাথের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের তরফেও পাল্টা অভিযোগ নিয়ে থানায় যাওয়ার খবর মিলেছে।
এদিকে রবিবার সকালে প্রাক্তন বিধায়ক প্রভাত চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আক্রান্ত মৃণাল সেনের বাড়িতে যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘটনাস্থল থেকে কলাছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব খুব বেশি নয়। ফলে পুলিশের উপস্থিতির কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনার অভিযোগ ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে আক্রান্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।



















