গুয়াহাটি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): বারবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসমকে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য একটি সমন্বিত পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি এখন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, পরিকাঠামো পুনর্গঠন এবং বন্যা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত ডিজিটাল মূল্যায়নের মাধ্যমে পুনর্গঠনের কাজ ত্বরান্বিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পুনর্বাসন প্যাকেজের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামত, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পুনরুদ্ধার এবং বন্যায় নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ, তাঁত ও বস্ত্রের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান শর্মা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক চাপ কমাতে ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে পরিবারগুলি জীবিকা পুনর্গঠনের জন্য আরও সময় পাবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন শর্মা। ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও পড়ুয়াদের সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে বন্যার কারণে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয় এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কঠিন সময়ে সরকার শুধু ত্রাণ দেওয়ার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি। আমরা প্রতিটি বন্যাকবলিত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।”
অসমের দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশলে আধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী পরিকাঠামো এবং উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস ও সময়মতো সতর্কবার্তা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেবে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতি বছর বন্যার কারণে অসমে বাড়িঘর, পরিকাঠামো, কৃষি ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান শর্মা।
এর আগে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গুয়াহাটির শ্রদ্ধাঞ্জলি কাননে শহিদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অসংখ্য দেশপ্রেমিকের আত্মত্যাগ স্মরণ করার পাশাপাশি এই দিনটি আরও শক্তিশালী ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম অসম গড়ার অঙ্গীকার করারও সময়।
–আইএনএস
















