নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান দেশের প্রতিটি মানুষের মনে দেশপ্রেম ও গর্বের অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে নিজের বাসভবনে এই অভিযানের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ অমিত শাহ লেখেন, “আজ নয়াদিল্লিতে আমার বাসভবনে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের অধীনে তেরঙ্গা উত্তোলন করেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ প্রতিটি ভারতীয়ের হৃদয়ে দেশপ্রেম ও গৌরবের অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করছে। আজ কোটি কোটি দেশবাসী তেরঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর চেতনাকে আরও শক্তিশালী করছেন।”
‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অধীনে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান শুরু করা হয়েছিল। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় পতাকার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ককে শুধু সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তিগত দেশপ্রেমের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বাড়িতে তেরঙ্গা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের প্রতি ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও দেশ গঠনের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ বছর ‘হর ঘর তিরঙ্গা ২০২৬’ উৎসর্গ করা হয়েছে ‘১৫০ বছর বন্দে মাতরম’-এর চেতনার প্রতি। তেরঙ্গার প্রতি দেশবাসীর গর্ব, দেশপ্রেম এবং ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর মাধ্যমে প্রকাশিত মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসাকে সামনে রেখে এবারের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আবেদন করেন।
ইনস্টাগ্রামে একটি রিল শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “গর্বের সঙ্গে ১৫ আগস্ট উদযাপন করুন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানান এবং বিকশিত ভারতের জন্য শপথ নিন। হর ঘর তিরঙ্গা, ঘর ঘর তিরঙ্গা, হর মন তিরঙ্গা।”
দেশ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাড়িতে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’কে উৎসবে পরিণত করা হোক।
এর আগে চলতি সপ্তাহে দেশবাসীকে এই অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তেরঙ্গাকে দেশের “গর্ব” এবং “অনুপ্রেরণার উৎস” হিসেবে উল্লেখ করেন।
এক্স-এ তিনি লিখেছিলেন, “আমাদের তেরঙ্গা আমাদের গর্ব এবং দেশের জন্য সর্বদা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অনুপ্রেরণার স্থায়ী উৎস।”
তিনি দেশবাসীকে উৎসাহের সঙ্গে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত অঙ্গীকারকে নতুন করে শক্তিশালী করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এবারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান ‘বন্দে মাতরম’-এর ভাবনাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির সময় এই উদ্যোগ উৎসর্গ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



















