নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরাখণ্ডের হলদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সরব হল বিরোধী দলগুলি। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা এই ঘটনাকে দেশের জন্য “অত্যন্ত লজ্জার” বলে মন্তব্য করেন।
বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন খার্গ। এরপর কংগ্রেস সাংসদ কুমারী সেলজা বলেন, “এটি বিজেপি-আরএসএস এবং তাদের মতাদর্শের জন্য লজ্জার বিষয়। একদিকে তাঁরা ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ করছেন, অন্যদিকে সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত সাম্যের নীতিকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।”
আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “শুদ্ধিকরণের প্রয়োজন সভাস্থলের নয়, বরং এই ধরনের কাজের পিছনে যে মানসিকতা রয়েছে তার।” তাঁর আরও মন্তব্য, এই মতাদর্শ, মানসিকতা ও বৈষম্যমূলক চিন্তাভাবনা থেকে উত্তরাখণ্ডকে মুক্ত করা প্রয়োজন।
আজাদ সমাজ পার্টি-কাংশীরাম প্রধান তথা সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ প্রশ্ন তোলেন, দেশে দলিত, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আর কতদিন এই ধরনের অপমান সহ্য করতে হবে? আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন দলের হতে পারি, কিন্তু জাতের ভিত্তিতে কাউকে অপমান করা হলে আমরা এই অন্যায় মেনে নেব না। কেন এমন করা হল, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে।”
আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা-ও ঘটনাটিকে “অত্যন্ত লজ্জার” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হবে, কিন্তু দেশের পরিস্থিতি কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মধ্যযুগে প্রচলিত জাতিভিত্তিক ব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা এখনও সমাজে বিদ্যমান।
কংগ্রেস সাংসদ তারিক আনোয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৭০ বছরেরও বেশি সময় পরেও যদি তফসিলি জাতি বা দলিতদের এইভাবে আচরণের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তাঁরা কীভাবে দেশের মূল স্রোতে যুক্ত হবেন? তাঁর মতে, তাঁদের বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতা ও বৈষম্যের মানসিকতা এখনও থেকে থাকলে তা দেশের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
কংগ্রেস সাংসদ রাজীব শুক্লা বলেন, রাজনীতিতে এতটা নিচে নেমে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে কথিত ঘটনাটি নিয়ে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়িও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি এবং একজন বিশিষ্ট দলিত নেতা হলদ্বানিতে সভা করেছেন—এটি বিজেপি মেনে নিতে পারেনি। তাঁর দাবি, এই ঘটনাই দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের প্রতি বিজেপির “প্রকৃত চরিত্র ও মানসিকতা” প্রকাশ করে।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, “আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বিজেপির নিজেদের বিবেক শুদ্ধ করা উচিত। দেশকে বাঁচান, পড়ুয়াদের বাঁচান, অনুদান চুরি থেকে তাঁদের বাঁচান।” তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনা তাঁর কাছে নতুন নয়।
— আইএএনএস



















