জয়পুর, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): ব্রিকস-এর সদস্য দেশগুলির অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও বৃহৎ পরিসরে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশগুলি একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বুধবার তিনি বলেন, শুধু পুঁজির জোগান থাকলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আস্থা, স্থিতিশীলতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত ব্রিকস অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নরদের বৈঠকের ফাঁকে ‘সদস্য দেশগুলিতে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন সীতারামন।
তিনি বলেন, বৃহৎ পরিসরে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের জন্য বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো, প্রকল্পগুলিকে আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক অর্থায়ন নির্ভর করবে অংশীদারিত্বের উপর। বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয় সরকার এবং বেসরকারি ক্ষেত্র—প্রত্যেকেরই নিজস্ব দক্ষতা ও শক্তি রয়েছে এবং সমন্বিতভাবে তা কাজে লাগানো প্রয়োজন।
ভারতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সীতারামন বলেন, ধারাবাহিক সরকারি মূলধনী ব্যয় এবং পরিপূরক কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশের পরিকাঠামো ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এক দশক আগের তুলনায় সরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মহাসড়ক, রেলপথ, বন্দর, লজিস্টিক ব্যবস্থা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং জ্বালানি নেটওয়ার্কের মতো ক্ষেত্রে উৎপাদনশীল জাতীয় সম্পদ তৈরির লক্ষ্যেই এই বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তাঁর মতে, সরকারি মূলধনী বিনিয়োগের কাজ হওয়া উচিত অনুঘটকের ভূমিকা পালন করা, বেসরকারি বিনিয়োগের বিকল্প হয়ে ওঠা নয়। এই নীতির ভিত্তিতে সরকার একাধিক সংস্কার করেছে। আর্থিকভাবে কঠিন হলেও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিকে সহায়তা করতে ‘ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং’, সড়ক পরিকাঠামোয় ঝুঁকির ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনের জন্য ‘হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেল’ এবং প্রকল্পগুলিকে বিনিয়োগযোগ্য করে তুলতে ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টস’ গঠনের ফলে মূলধন পুনর্ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে একাধিক নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে নতুন ডেডিকেটেড রেল ফ্রেট করিডর, নতুন হাই-স্পিড রেল করিডর, নতুন জাতীয় জলপথের কার্যকর ব্যবহার এবং উপকূলীয় পণ্য পরিবহণে উৎসাহ দেওয়ার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের সচিব অনুরাধা ঠাকুর বলেন, শুধুমাত্র অনুকূল পরিস্থিতির উপর পুঁজি সংগ্রহ নির্ভর করতে পারে না। এর জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো প্রয়োজন। এই ধরনের কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি সুফল দিতে পারে।
সেমিনারে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নীতিনির্ধারক, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে ব্রিকস দেশগুলির প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং শিক্ষা জগতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিস্তারিত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
________



















