নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩-তেই স্থির রাখা উচিত বলে মন্তব্য করলেন কংগ্রেস সাংসদ পি. চিদম্বরম। বুধবার তিনি বলেন, আসন সংখ্যা বাড়ানো হলে লোকসভা আর কার্যকর সংসদীয় কক্ষ থাকবে না, বরং চিনের সংসদের মতো বিশাল জনসভায় পরিণত হতে পারে।
সাংবাদিকদের চিদম্বরম বলেন, “লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩-তেই স্থির রাখা উচিত। তা না হলে এটি চিনা সংসদের মতো হয়ে যাবে। এটি একটি জনসভায় পরিণত হবে, সংসদীয় কক্ষ থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলির লোকসভায় প্রতিনিধিত্বের অনুপাতও স্থির রাখা উচিত। তাঁর কথায়, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য দক্ষিণের রাজ্যগুলিকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। তামিলনাড়ুর বর্তমান প্রতিনিধিত্বের অনুপাত ৭.১৮ শতাংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিদম্বরম স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন বিলের কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যগুলির বর্তমান প্রতিনিধিত্ব কমানো উচিত নয়। যে রাজ্যগুলি সম্মিলিতভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, তাদের কেন আসন কমে যাওয়ার শাস্তি পেতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঝাড়খণ্ডে ‘বিধানসভা ঘেরাও’ কর্মসূচিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান চিদম্বরম। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী-সহ তিনি এবং আরও বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা ওই পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, “পুলিশ এবং তাদের রাজনৈতিক প্রভুদের লজ্জা হওয়া উচিত। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। কিন্তু তা ঘটেছে এবং আমরা তার নিন্দা করছি।”
এদিকে, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন-এর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে রাঁচিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন বুধবার ১৯তম দিনে পড়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, দুই পরীক্ষার প্রার্থীরাই দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এক আন্দোলনকারী জানান, বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষ যোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আন্দোলনস্থলে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত পড়ুয়াদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উদ্বেগও বাড়ছে।
তিনি বলেন, “অনেক মানুষ এখানে এসেছেন। ভোরেই বাবুলাল মারান্ডি এখানে এসেছিলেন। অনেক আলোচনা হয়েছে এবং তিনি পড়ুয়াদের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন। এত মানুষ এখানে বসে রয়েছেন, অথচ তাঁদের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।”



















