বিলোনিয়া, ৬ আগস্ট: বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শাসন যদি হয় আতঙ্কের কারণ, তবে বিদ্যালয় কি আর বিদ্যামন্দির থাকে,বিলোনিয়ার বুকে উঠেছে এই প্রশ্নই। আর প্রশ্নের কেন্দ্রে — মাত্র সাত বছরের এক শিশু নাম তার শিবম দাস(৭),দ্বীতিয় শ্রেণীর ছাত্র।
বিলোনিয়া শতবর্ষ প্রাচীন বিকেআই ইনস্টিটিউশনের ছাত্র। বাড়ি সিদ্ধেশ্বরী কালিবাড়ি সংলগ্ন কলেজ স্কয়ার এলাকায়।অভিযোগ — সহপাঠীকে লাথি মারার জন্য ক্লাসের মধ্যেই নাকি বেত্রাঘাত করেন স্কুলের প্রিন্সিপাল কুলেন্দ্র ত্রিপুরা , এখানেই শেষ নয় ইংরেজি ক্লাসে আবার অভিযোগ ওঠার পর, অভিযোগ শুনে স্টাফ রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে নাকি ইউনিফর্ম খুলে, হাত পিছমোড়া করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় শিবমকে।
ছুটির পর বাবা সুশান্ত দাস ছেলেকে নিতে এসে স্টাফ রুমে দেখেন সেই দৃশ্য। শরীরে বেতের দাগ, চোখে জল, মুখে আতঙ্ক।বাবার আক্ষেপ শাসন করুক আপত্তি নেই। কিন্তু এটা তো শাসন নয়, এটা শিশু নির্যাতন। আজ শাসনের আতঙ্কেই স্কুলের নাম শুনলে আৎকে ওঠে শিবম। বাবার কাছে হাত জোড় করে বলে বাবা, আমাকে আর স্কুলে দিও না।
অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের গাইডলাইন স্পষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের বেত্রাঘাত নয়, হুমকি নয়, ভয় দেখানো নয়। দোষ করলে করতে হবে কাউন্সেলিং, বোঝাতে হবে কোনটা গুণ, কোনটা দোষ। তবে কেন গাইডলাইনকে কলাপাতা ভেবে সাত বছরের শিশুর উপর নেমে এলো এমন অমানবিক শাসন, বিদ্যালয় মানে ভবিষ্যতের শিক্ষার কারখানা। সেখানে যদি শাসনের নামে চলে শোষণ, তবে আগামীর কচি কুঁড়ি ফুটবে কিভাবে? ঘটনার দায় কে নেবে? জবাব চাইছে বাবা, চাইছে অভিবাবক সহ বিলোনিয়াবাসী। এখন দেখার বিষয় শিক্ষা দপ্তর কি ভূমিকা পালন করে।



















