নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রস্তাবিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির ভেন্যুর অনুমতি বাতিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত উত্তরপ্রদেশ সরকার পরিকল্পিতভাবে ছাত্র-যুবদের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সংলাপ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। যদিও ভেন্যুর মালিকপক্ষ জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট অনিরাপদ পরিস্থিতি এবং আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আগামী ৮ আগস্ট প্রয়াগরাজের কেপি গ্রাউন্ডে রাহুল গান্ধীর ছাত্র-সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত অনুষ্ঠানের মাত্র দু’দিন আগে কায়স্থ পাঠশালা ট্রাস্ট, যারা ওই মাঠের মালিক, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে অনুমতি বাতিল করে।
উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায় অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে রাহুল গান্ধীর ছাত্র-সংলাপ কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রথমে রাজস্থানের কোটা, তারপর উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন, আর এবার প্রয়াগরাজ—সব জায়গাতেই বিজেপি সরকার ছাত্র-যুবদের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর ঐতিহাসিক সংলাপ থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্ধারিত দিনেই প্রয়াগরাজে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে এবং ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ওরা ঠিক কীসের ভয় পাচ্ছে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
কংগ্রেস সাংসদ বিবেক তনখা অভিযোগ করেন, এই ঘটনা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করার শামিল। তাঁর মতে, বিরোধী দলনেতার ছাত্রদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ কেড়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
আরেক কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী প্রশাসনের পদক্ষেপকে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করে বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার একটি কর্মসূচিকেও যদি সরকার ভয় পায়, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসানও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেক নাগরিকের দেশের যে কোনও প্রান্তে যাওয়া এবং মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করার অধিকার রয়েছে। কাউকে তা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা সরকারের দুর্বলতারই পরিচয় বহন করে।



















