রাঁচি, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-র নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার ১৩তম দিনে পড়েছে। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে চলা এই আন্দোলনে রাজ্যের একাধিক ছাত্র সংগঠন যোগ দিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে মূলত জেপিএসসি পরীক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। টানা রাতভর বৃষ্টির মধ্যেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সরকার দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র মাহাতো অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা রাতভর অবস্থান করে জানান, বৃষ্টি তাঁদের মনোবল ভাঙতে পারবে না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনরত এক ছাত্র আইএএনএস-কে বলেন, ঝাড়খণ্ডের শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি শিকড় গেড়ে বসেছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরি পেতে ঘুষ দেওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এমনকি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) পরীক্ষার একটি আসন ২৫ লক্ষ টাকায় বিক্রির অভিযোগও তিনি তোলেন।
আরও এক আন্দোলনকারী জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং রাজ্যের পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে এবং দ্রুত সংস্কার, দাবিদাওয়া পূরণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় স্থায়ী রাশ টানতে হবে।
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের এক পরীক্ষার্থী বলেন, তাঁদের মতো বহু যুবকের কাছে সরকারি চাকরিই ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও যদি অনিয়ম হয়, তবে তাঁদের সামনে আর কোনও পথ খোলা থাকে না।
আরেক বিক্ষোভকারী জানান, ঝাড়খণ্ড পুলিশ, ওয়ার্ডারসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য হাজার হাজার তরুণ দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তাঁদের অনেকেই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং পরিবারের ত্যাগ-তিতিক্ষার ওপর নির্ভর করেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই নিয়োগে অনিশ্চয়তা তাঁদের ভবিষ্যৎকে গভীর সংকটে ফেলছে।
এদিকে, আন্দোলনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ছাত্র প্রতিনিধিদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়েছে। এই বৈঠক থেকে ইতিবাচক সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদী আন্দোলনকারীরা।
























