আগরতলা, ৫ আগস্ট: নাগরিক অধিকার রক্ষা, সরকারি সম্পদ সুরক্ষা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, মনরেগা, উন্নয়ন প্রকল্প, ভোটাধিকার এবং বিভিন্ন মন্দিরে অর্থ ও প্রণামী আত্মসাতের অভিযোগের প্রতিবাদে সপ্তাহব্যাপী গণআন্দোলনের সূচনা করল প্রদেশ কংগ্রেস। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার আগরতলার ওরিয়েন্ট চৌমুহনী এলাকায় তিন ঘণ্টাব্যাপী গণঅবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে সদর জেলা কংগ্রেস।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, সদর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তন্ময় রায়, প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি নীলকমল সাহা, প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ, তপশিলি কংগ্রেসের সভাপতি নিরঞ্জন দাস, ওবিসি কংগ্রেসের সভাপতি মনোরঞ্জন দেবনাথ, কংগ্রেস নেতা সুশান্ত চক্রবর্তী, এনএসইউআই-এর রাজ্য সভাপতি আমীর হোসেন, প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি শান্তিরঞ্জন দেবনাথ, সহ-সভানেত্রী পৃথা দেব, অসংগঠিত কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শান্তনু পালসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশ ও রাজ্য অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং প্রশাসনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—প্রায় সব ক্ষেত্রেই অবনতি হয়েছে। তিনি এর জন্য কর্পোরেটমুখী নীতি, দুর্নীতি এবং অপরাধীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের আঁতাতকে দায়ী করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন মন্দিরে অর্থ ও প্রণামী আত্মসাতের মতো ঘটনা মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে। একইসঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে দুর্নীতি ও দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রবীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, খাদ্য সুরক্ষা আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে অন্ত্যোদয় প্রকল্পের সুবিধাভোগী দরিদ্র পরিবারগুলোর খাদ্য বরাদ্দ কমানোর উদ্যোগ উদ্বেগজনক। জনকল্যাণের পরিবর্তে কর্পোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের দাবি, রাজ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অপরাধ দমনে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানী আগরতলায় স্মার্ট সিটির বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, স্মার্ট মিটার, বিদ্যুৎ পরিষেবার সমস্যা, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয়ও গণঅবস্থানে তুলে ধরা হয়।
সভায় যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহাও রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মান ক্রমশ অবনতি ঘটছে।























