কলম্বো, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি বুধবার কলম্বো সফরে শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে শ্রীলঙ্কায় ভারতের হাইকমিশনার সন্তোষ ঝা-সহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় হাইকমিশন এক্স-এ জানিয়েছে, বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি তাঁর কলম্বো সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এর আগে বুধবার একদিনের সফরে কলম্বো পৌঁছান বিক্রম মিশ্রি। সফরকালে তিনি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিসানায়েকে, প্রধানমন্ত্রী হারিণী আমরাসুরিয়া-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ভারতীয় হাইকমিশনের মতে, ভারত-শ্রীলঙ্কার নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ যৌথ উদ্যোগগুলির গতি বাড়াবে।
এর একদিন আগে, মঙ্গলবার ভারতের হাইকমিশনার সন্তোষ ঝা শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়তিসার হাতে ৫০০ লিটার টেকনিক্যাল ম্যালাথিয়ন তুলে দেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শ্রীলঙ্কার চলমান প্রচেষ্টায় সহায়তা হিসেবে ভারত সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়। সন্তোষ ঝা জানান, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত সবসময় শ্রীলঙ্কার পাশে রয়েছে।
এর আগে ২৭ জুলাই শ্রীলঙ্কার শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্ডোর সঙ্গে ভারত-সহায়তাপ্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে সন্তোষ ঝা জানান, শ্রীলঙ্কায় ভারতের উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৮৫০ মিলিয়নেরও বেশি ডলার অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রেল, জ্বালানি ও জীবিকাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রকল্পগুলি শ্রীলঙ্কার ২৫টি জেলার সবকটিতেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্ক আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এবং দুই দেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং ‘মহাসাগর’ দৃষ্টিভঙ্গিতে শ্রীলঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কা সফর করেন। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিসানায়েকে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ছিলেন দেশটিতে সফরকারী প্রথম বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান। সেই সফরে প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, জ্বালানি ও সংযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
______
























