ভুবনেশ্বর, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতি বৃহস্পতিবারও উদ্বেগজনক রয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, ফসলের ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যের ১৮টি জেলা, ৯৫টি ব্লক, ৪৭২টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১,৩০১টি গ্রাম এবং ১৪টি শহরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ৫ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৩ জন মানুষ বন্যার প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫১৮ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের রাজ্যের রাজস্ব ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পুজারি জানান, বৃষ্টিপাত প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ১ আগস্ট পর্যন্ত নতুন করে ভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা না থাকায় বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।
তবে জলসম্পদ দফতর মহানদীতে মাঝারি মাত্রার বন্যার সতর্কতা জারি করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে আগামী ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। দফতরের মুখ্য প্রকৌশলী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহানদীর মুন্ডালি ব্যারাজ দিয়ে প্রায় ৯ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহানদী ও তার শাখা নদীগুলিতে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় খোরদা, পুরী, জগৎসিংহপুর এবং কেন্দ্রাপাড়া জেলার নিচু এলাকায় অভিজ্ঞ আধিকারিক ও প্রকৌশলীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্ত্রী সুরেশ পুজারি বলেন, কটক জেলার বড়াম্বা ও আঠাগড় এলাকার নিচু অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বন্যার জল ঢুকতে শুরু করেছে। তিনি কটকের জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই প্রশাসন মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, ছত্তীসগঢ়ের উজান এলাকায় বৃষ্টি কমে যাওয়ায় মহানদীর জলস্তর ধীরে ধীরে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেবী, কুশভদ্রা, ইব, ব্রাহ্মণী, বৈতরণী, বুধাবলঙ্গা, সুবর্ণরেখা, বংশধারা, ঋষিকুল্যা এবং জলকা-সহ বিভিন্ন নদীর জলস্তরও ধীরে ধীরে নামছে।
মন্ত্রী আবারও বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের ত্রাণ শিবিরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং মহিলাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিন সুরেশ পুজারি হেলিকপ্টারে করে যাজপুর, ভদ্রক, বালেশ্বর এবং কেন্দুঝর জেলার বন্যাকবলিত ও জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজস্ব ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অরবিন্দ কুমার পাধী এবং বিশেষ ত্রাণ কমিশনার (এসআরসি) রাজেশ প্রভাকর পাটিল। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।



















