নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): মায়ানমারভিত্তিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র গুয়াহাটি ও ইম্ফল জোনাল ইউনিট। সংস্থার ধারাবাহিক অভিযানের জেরে মাদক পাচারকারীরা এখন প্রচলিত রুট ছেড়ে ঘন জঙ্গল ও নদীপথ ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ভারত বর্তমানে একাধিক দিক থেকে মাদক পাচারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে মায়ানমার থেকে পরিচালিত মাদক চক্রগুলি দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এনসিবি-র গুয়াহাটি ও ইম্ফল ইউনিট একাধিক বড় মাদক উদ্ধার অভিযানে সাফল্য পেলেও, পাচারকারীদের কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এক আধিকারিক জানান, এই চক্রগুলি মূলত হেরোইন ও মেথামফেটামিন ভারতে পাচার করে। আগে নজরদারি তুলনামূলক কম থাকায় তারা সহজেই প্রচলিত রাস্তায় মাদক নিয়ে আসত। কিন্তু এখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কড়াকড়ি বাড়ায় তারা ঘন জঙ্গল এবং নদীপথ ব্যবহার করছে, যাতে সহজে ধরা না পড়ে।
ভারত-মায়ানমার সীমান্তের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই পাচার রোধ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মকর্তাদের মতে, পাচারকারীরা সাধারণত রাতের অন্ধকারে মাদক বহন করে এবং ভারী বৃষ্টির মতো প্রতিকূল আবহাওয়াকেও কাজে লাগায়, কারণ সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ও চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়।
গোয়েন্দা ব্যুরোর (আইবি) এক আধিকারিক জানান, এই পাচারচক্রের সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং বহুস্তরবিশিষ্ট। মায়ানমার থেকে মাদক প্রথমে সীমান্তবর্তী বাহকদের হাতে পৌঁছায়। এরপর পরিবহণ সমন্বয়কারীদের মাধ্যমে তা স্থানীয় সহযোগীদের কাছে যায়। তারাই পরে ক্রেতাদের হাতে মাদক তুলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, আর্থিক লেনদেনের জন্যও আলাদা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই চক্রের অর্থ সংগ্রহ ও পাচারের দায়িত্বে থাকে এমন কিছু ব্যক্তি, যারা সাধারণত তদন্তকারী সংস্থার নজরের বাইরে থাকে। তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে মায়ানমারের মাদক চক্রের কাছে পৌঁছে দেয়।
এক আধিকারিকের কথায়, পাঞ্জাব সীমান্তে পাকিস্তানভিত্তিক পাচারকারীরা এখন মূলত ড্রোন ব্যবহার করে মাদক পাঠালেও, মায়ানমারভিত্তিক চক্র এখনও মানববাহক এবং প্রচলিত পাচার নেটওয়ার্কের উপরই বেশি নির্ভরশীল। ফলে এই নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা আরও জটিল।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই বহুস্তরীয় নেটওয়ার্ক এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সম্পূর্ণভাবে পাচারচক্র নির্মূল করতে সময় লাগবে। প্রতিটি স্তরে নজরদারি চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি মায়ানমারের চিন রাজ্যের হাইচিন এলাকার বাসিন্দা নেংজাতুয়ান ওরফে তুয়ানপিকে মণিপুর থেকে গ্রেপ্তার করাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে এনসিবি। একাধিক মাদক মামলায় অভিযুক্ত তুয়ানপি আন্তর্জাতিক স্তরের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী বলে তদন্তকারীদের দাবি।
কর্মকর্তাদের মতে, তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মায়ানমারভিত্তিক মাদক চক্রের পাচারপথ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভারতমুখী মাদক সরবরাহের শৃঙ্খল ভাঙার পাশাপাশি, ভারত হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কীভাবে মাদক পাচার হয়, সেই নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসবে বলে আশা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।



















