নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): জাপান ওপেন ২০২৬-এর মহিলা এককের ফাইনালে উঠে নিজের একাগ্রতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং কোচের পরামর্শকেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে জানালেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু।
শনিবার টোকিও মেট্রোপলিটন জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে চিনের চেন ইউফেইয়ের বিরুদ্ধে ২১-১৯, ১৫-১০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান। এর ফলে প্রথমবারের মতো বিডব্লিউএফ সুপার ৭৫০ প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠলেন সিন্ধু। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই তাঁর প্রথম বিডব্লিউএফ ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনাল।
ম্যাচ শেষে সিন্ধু বলেন, “ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুবই খুশি। আমার কাছে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে আজকের ম্যাচে শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখা খুব জরুরি ছিল। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খেললে প্রতিটি পয়েন্টের মূল্য অনেক। তাই প্রথম গেম জেতাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
এই জয়ের মাধ্যমে চেন ইউফেইয়ের বিরুদ্ধে টানা চারটি হারের ধারা ভাঙলেন সিন্ধু। ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের পর এই প্রথম তিনি চিনা তারকাকে হারালেন। পাশাপাশি জাপান ওপেনের মহিলা এককে ফাইনালে ওঠা প্রথম ভারতীয়ও হলেন তিনি।
সিন্ধু জানান, প্রথম গেমে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও যখন চেন ইউফেই ব্যবধান কমিয়ে আনছিলেন, তখন তাঁর কোচ বারবার শান্ত থাকতে এবং পরের পয়েন্টে মনোযোগ দিতে বলেন।
সিন্ধুর কথায়, “আমি খুব মনোযোগী ছিলাম। প্রথম গেমে এগিয়ে থাকলেও চেন ইউফেই ফিরে আসছিল। তখন কোচ বলছিলেন, আগের পয়েন্ট নিয়ে না ভেবে শুধু পরের পয়েন্টে মনোযোগ দিতে। কখনও এগিয়ে থেকেও কয়েকটি পয়েন্ট হারালে নানা চিন্তা মাথায় আসে। কিন্তু কোচের ওই কথাগুলো আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রথম গেমের একটি দীর্ঘ র্যালি জেতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় গেমেও শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে ম্যাচ ছাড়তে বাধ্য হন।
বর্তমানে বিশ্বের ১২ নম্বরে থাকা সিন্ধু রবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হবেন জাপানের বিশ্বের তিন নম্বর এবং তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আকানে ইয়ামাগুচির। এই ম্যাচে জয়ী হলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনাল জয়ের পর এটিই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় শিরোপা।
























