নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): ২১ দিনের অনশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা তাঁর এবং পরিবারের সম্মতি ছাড়া না করার অনুরোধ জানিয়ে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্টকে চিঠি লিখেছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. অ্যাংমো।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “সোনম ওয়াংচুককে আমার সম্মতি ছাড়া মুখে বা শিরায় (আইভি) কোনও ওষুধ, তরল বা অন্য কোনও পদার্থ দেওয়া যাবে না। এটি আমার অনড় অনুরোধ এবং নির্দেশ।”
গীতাঞ্জলি দাবি করেন, শুক্রবার পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুকের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক ছিল। তাঁর কথায়, ১৭ জুলাই বিকেল ৪টা ১৬ মিনিটে তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা ছিল ৪.৩।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকেরা যে ওষুধ বা তরল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, সে সম্পর্কে আগে পরিবারকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বা সামগ্রী তাঁরাই কিনে দেবেন। পাশাপাশি, ওয়াংচুকের সমস্ত চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট ডিজিটাল বা মুদ্রিত আকারে পরিবারের সঙ্গে স্বচ্ছভাবে ভাগ করে নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
চিঠিতে গীতাঞ্জলি আরও উল্লেখ করেন, শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের হাতে কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে, সোনম ওয়াংচুকের পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯-এ নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনে যোগ দিয়ে সোনম ওয়াংচুক ২১ দিন ধরে অনশন করছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার সকালে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দিয়ে দিল্লি পুলিশ মারধর করেছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দীপকে জানিয়েছেন, তিনি শনিবার থেকেই অনশন শুরু করেছেন এবং আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



















