নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জুলাই: রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নান্নু আজ লোক ভবনে সেলফ-এনুমারেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘জনগণনা ২০২৭’-এর কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেলফ-এনুমারেশন পোর্টালের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রয়োজনীয় তথ্য নথিবদ্ধ করেন। এরপর রাজ্যপাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন জনগণনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ত্রিপুরার জনগণের প্রতি এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলা, পুর এলাকায় এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি তহবিলের সুষম বণ্টন এবং কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি নির্ভুল জনগণনা অত্যন্ত জরুরি। সম্পদ বরাদ্দ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার তথ্যই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি সঠিক তথ্য প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ভুল তথ্যের কারণে পরিকল্পনা এবং সরকারি সুবিধা বণ্টনের প্রক্রিয়া ব্যহত হতে পারে।
রাজ্যপাল বলেন, সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা অনুষ্ঠিত হলেও কোভিড-১৯-এর কারণে তা বিলম্বিত হয়েছিল এবং এখন তা ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তিনি জানান, এই জনগণনা দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে আবাসন পরিস্থিতি, পরিবারের বিবরণ, সুযোগ-সুবিধা এবং সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য দ্বিতীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা গণনার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করে রাজ্যপাল নাল্লু বলেন, ‘জনগণনা ২০২৭’-এ উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বয় থাকবে। প্রথমবারের মতো নাগরিকরা একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য নিজে নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। জনগণনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি সহজতর ও তদারকি করার লক্ষ্যেই এই পোর্টালটি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান যে, গণনা প্রক্রিয়া থেকে যাতে কোনো ব্যক্তি বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র গণনার আওতায় আনা হবে। জনগণনা কর্মসূচিতে কার্যক্রমে পূর্ণ সহায়তা প্রদানের জন্য তিনি মুখ্য সচিব থেকে শুরু করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, গ্রাম কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনগণনা কার্যক্রমের অধিকর্তা রতন বিশ্বাস, অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের অধিকর্তা দেবানন্দ রিয়াং এবং আদমশুমারি কার্যক্রম ও অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।



















