কলকাতা, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কর্ণসুবর্ণে স্কুলভ্যান ও ট্রেনের মর্মান্তিক সংঘর্ষে তিন স্কুলপড়ুয়াসহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে গেটম্যানের চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠে এসেছে। পুলিশ ও রেলওয়ের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দায়িত্বে থাকা গেটম্যান মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং দ্রুতগতিতে ট্রেন আসার খবর পাওয়া সত্ত্বেও রেলগেট বন্ধ করেননি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল ট্রেন ডাউন লাইনে দ্রুতগতিতে আসছিল। সেই খবর গেটম্যানকে জানানো হলেও তিনি রেলগেট নামাননি। ফলে ট্রেন আসার বিষয়টি বুঝতে না পেরে স্কুলভ্যানের চালক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় ট্রেনটি ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই তিন স্কুলপড়ুয়াসহ চারজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর গুরুতর কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যানকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করে রেল কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময়ও তিনি দৃশ্যত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই গেটম্যানের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করার অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাঁদের দাবি, অনেক সময় ট্রেন চলে যাওয়ার পরও তিনি রেলগেট খুলতে ভুলে যেতেন, যার ফলে দীর্ঘ সময় যানজটের সৃষ্টি হতো। স্থানীয়দের আশঙ্কা ছিল, একদিন গেট বন্ধ করতে ভুলে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শুক্রবার সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিন স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যু হলেও আরও চারজন, যার মধ্যে তিনজন ছাত্রছাত্রী, গুরুতর আহত অবস্থায় বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে গেটম্যানের গাফিলতির অভিযোগ সামনে এলেও রেল অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। গেটম্যান সরকারি কর্মী নাকি চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন, তিনি যথাযথ প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন কি না, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে গেটম্যানের অবহেলাকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















