জাকার্তা, ৭ জুলাই (আইএএনএস): ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা অব দ্য রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া’ পদকে ভূষিত করার ঘোষণা করেছেন।
১৯৫৯ সালে প্রবর্তিত ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’ ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ অসামরিক ও সামরিক সম্মান। অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করা হয়।
এই সম্মানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রাপ্ত সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানের তালিকায় আরও একটি সংযোজন হল। এখনও পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে তিনি ৩০টিরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, যা তাঁকে ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গত মাসে সেশেলস সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ প্রদান করে। সেই সম্মান তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইরত সমস্ত দেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে পরিবেশ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলেন।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানি, বাণিজ্য, সামুদ্রিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে জাকার্তায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নজিরবিহীন আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানো হয়। মেরদেকা প্রাসাদের পথে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলপড়ুয়া শিশুরা ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পতাকা নেড়ে তাঁকে স্বাগত জানায়। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো নিজে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এবং দুই নেতা উষ্ণ আলিঙ্গন বিনিময় করেন। পরে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
সোমবার বিকেলে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম পর্বে জাকার্তায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিরল কূটনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁকে স্বাগত জানান।
বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে অভ্যর্থনা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-এ উন্নীত করা হয়েছিল, যার সুফল দুই দেশের জনগণ পেয়েছে। এবারের সফরে সেই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচনা হবে।
এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর চতুর্থ ইন্দোনেশিয়া সফর হলেও, ২০১৮ সালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।
সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো যোগ্যাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন।



















