নাগপুর, ৬ জুলাই (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা জেলায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা কুয়োর ভিতরে আটকে থাকা এক ব্যক্তিকে সফলভাবে উদ্ধার করল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এনসিসি)-র একটি দল। দ্রুত পদক্ষেপ ও সাহসিকতার জন্য উদ্ধারকারী দলের প্রশংসা করেছেন কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, ৩ জুলাই ওয়ার্ধায় অনুষ্ঠিত কম্বাইন্ড অ্যানুয়াল ট্রেনিং ক্যাম্প (সিএটিসি-৬০৫)-এর ক্যাম্প অফিসের কাছে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। নং ৩ মহারাষ্ট্র (গার্লস) ব্যাটালিয়ন এনসিসি, নাগপুর-এর সদস্যরা ঘটনাটির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ডেপুটি ক্যাম্প কমান্ড্যান্ট মেজর রিজু রাওয়াতের কাছে এক স্থানীয় মহিলা এসে জানান, কাছের একটি কুয়ো থেকে সাহায্যের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। তিনি জানান, তাঁর এক প্রতিবেশী দুর্ঘটনাবশত কুয়োয় পড়ে গিয়েছেন। অনেক মানুষ ওই পথ দিয়ে গেলেও কেউ তাঁকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেজর রিজু রাওয়াত ক্যাম্প কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রীতি তিওয়ারিকে বিষয়টি জানান এবং সুবেদার মেজর চন্দ্র ভান সিং, হাবিলদার (নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট) জাঙ্গালে জি.বি., নায়েক (নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট) গণেশ এবং এমটিএস চালক বিশালের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
এনসিসি দল দড়ি-সহ ক্যাম্পে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পাশাপাশি, ক্যাম্পে এনসিসি ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দিতে আসা জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর সদস্যদের কাছ থেকে একটি রেসকিউ টিউবও সংগ্রহ করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, ওই ব্যক্তি ২ জুলাই সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ কুয়োয় পড়ে যান এবং সারা রাত সেখানেই আটকে ছিলেন। পরদিন ৩ জুলাই দুপুর নাগাদ, প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারের পর তাঁকে এনসিসি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি এনসিসি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “২ জুলাই সন্ধ্যায় আমি কুয়োয় পড়ে গিয়েছিলাম। এনসিসির কর্মীদের জন্য আজ আমি নতুন জীবন পেলাম। তাঁরা আমাকে সাহস জুগিয়েছেন, রেসকিউ টিউব ব্যবহার করে বাইরে তুলেছেন এবং আমার জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”
নং ৩ মহারাষ্ট্র (গার্লস) ব্যাটালিয়ন এনসিসি-র অফিসার কমান্ডিং লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রীতি তিওয়ারি উদ্ধারকারী দলের দ্রুত পদক্ষেপ ও জনসেবার মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, এই অভিযান এনসিসির মূলমন্ত্র ‘ঐক্য ও শৃঙ্খলা’-র প্রকৃত প্রতিফলন।
কর্মকর্তাদের মতে, এই সফল উদ্ধার অভিযান প্রমাণ করেছে যে, নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জাতি গঠন ও সমাজসেবায়ও এনসিসি সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



















