নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা ‘অপারেশন মিলাপ’-এর আওতায় ১ জুন থেকে ৩০ জুনের মধ্যে মোট ১৯৩ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করেছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৪৮ জন নিখোঁজ বা অপহৃত শিশু এবং ১৪৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের দাবি, ‘অপারেশন মিলাপ’ ধারাবাহিকভাবে নিখোঁজ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করে নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশ মোট ৮৬৬ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ২২৬ জন নাবালক-নাবালিকা এবং ৬৪০ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি নিখোঁজ বা অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। নিখোঁজদের ছবি অটো, ই-রিকশা স্ট্যান্ড, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বাসচালক, কন্ডাক্টর, স্থানীয় দোকানদার ও সোর্সদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং আশপাশের থানার নথি ও হাসপাতালের রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়।
জুন মাসে বিভিন্ন থানার মধ্যে বসন্ত বিহার থানা ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করেছে। আর কে পুরম থানা দুই নাবালক-নাবালিকা এবং তিন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করেছে। সাউথ ক্যাম্পাস থানা ছয়জন নিখোঁজ মহিলাকে খুঁজে পেয়েছে।
বসন্ত কুঞ্জ নর্থ থানা দুই নাবালিকা ও চারজন প্রাপ্তবয়স্ককে, বসন্ত কুঞ্জ সাউথ থানা ছয়জন নাবালক-নাবালিকা এবং নয়জন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করেছে। কাপাসহেরা থানা সাতজন নাবালক-নাবালিকা ও ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ককে এবং পালাম ভিলেজ থানা ছয়জন নাবালক-নাবালিকা ও ১১ জন প্রাপ্তবয়স্ককে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া সাগরপুর থানা ১৫ জন, দিল্লি ক্যান্ট থানা সাতজন, সরোজিনী নগর থানা দুই নাবালক-নাবালিকা ও দুই প্রাপ্তবয়স্ক, এস. জে. এনক্লেভ থানা ছয়জন এবং কিশনগড় থানা পাঁচজন নাবালক-নাবালিকা ও পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট (এএইচটিইউ) ১৮ জন নাবালক-নাবালিকাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি জেলা নিখোঁজ ব্যক্তি ইউনিট (ডিএমপিইউ) ৫৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করে পুনর্মিলিত করেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জুন মাসের অভিযানে পূর্ববর্তী বছরগুলিতে নথিভুক্ত একাধিক পুরনো নিখোঁজের মামলারও সমাধান হয়েছে। ২০১৯ সালের একটি, ২০২১ সালের দুটি, ২০২২ সালের তিনটি, ২০২৩ সালের ১৬টি, ২০২৪ সালের ২০টি এবং ২০২৫ সালের ৩৪টি নিখোঁজের মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ, সমন্বিত অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন ইউনিটের সক্রিয় ভূমিকার ফলেই এত সংখ্যক নিখোঁজ ব্যক্তিকে নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।



















