নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ জুলাই: আইনসভাকে গণতন্ত্রের মন্দির বলা হয়। বিধানসভার সদস্যদের আদর্শ, নিষ্ঠা ও সেবার মনোভাব আইনসভাকে প্রকৃত অর্থে পবিত্র করে তোলে। জনপ্রতিনিধিগণ নিজেদের জন্য নয় বরং যারা তাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদের সেবা করার জন্যই বিধানসভায় এসেছেন। আজ সকালে ত্রিপুরা বিধানসভার ৬৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু একথা বলেন। বিধানসভার লবিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বলেন, রাজ্য সরকার সমাজের প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক, সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে রাজ্য সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে জনজাতি অংশের মানুষের উন্নয়নে রাজ্য সরকার ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন সরকার পক্ষ এবং বিরোধী দলের সদস্যগণ ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ত্রিপুরার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখবেন। ত্রিপুরার ভারত ইউনিয়নের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি থেকে শুরু করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা প্রাপ্তি এবং পূর্ণাঙ্গ বিধানসভার ঐতিহাসিক ও গৌরবময় পথচলাও রাজ্যপাল তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রতনলাল নাথ। তিনি ত্রিপুরার ভারতভুক্তি থেকে শুরু করে বর্তমান বিধানসভার ইতিহাসের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। রাজ্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন বর্তমান বিধানসভার সদস্যগণ জনকল্যাণে কাজ করে যাবেন। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। তিনি ত্রিপুরা বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়কদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ জ্যোতির্ময় নাথ, জিতেন সরকার এবং রতন চক্রবর্তী। গণতন্ত্র রক্ষায় ত্রিপুরা বিধানসভার অবদান তাদের স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেন। ত্রিপুরা বিধানসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারি পদ্মশ্রী নরেশ চন্দ্র দেববর্মাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু শ্রী দেববর্মাকে সংবর্ধনা জানান। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা বিধানসভার সচিব এ. কে. নাথ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ এবং বিধায়কগণ উপস্থিত ছিলেন।


















